সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামান্য একজন বাড়ির পরিচারিকা থেকে আজ মন্ত্রী (West Bengal Minister)। প্রথমে যখন বিজেপি থেকে প্রার্থী বানিয়েছিল, তখন নানারকম প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু আজ তিনি বিধায়ক হওয়ার পর মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন লোকভবনে। এমনকি সংবাদমাধ্যমের কাছে নাকি তিনি জানতে পারেন যে, তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন। কোনও দিন ভাবেননি যে তিনি মন্ত্রী হবেন। মানুষের পাশে থাকবেন। হ্যাঁ, আমরা বলছি কলিতা মাঝির (Kalita Majhi) কথা। জানুন তাঁর জীবন সংগ্রামের গল্প।
সামান্য পরিচারিকা থেকে মন্ত্রী
আউসগ্রামের গর্বের নাম কলিতা মাঝি। ছোট্ট একটা একচালা বাড়ির বউ তিনি। সংসারে একেবারে নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা। কোনও মতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাতেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান তিনি। এমনকি বিয়েও খুব তাড়াতাড়ি হয়েছিল। আর যে বাড়িতে বিয়ে হয়েছিল, সেখানেও তাঁর কপালে সুখ ফেরেনি। পরিবারে অনটন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সংসারের হাল ধরার জন্য তাঁকে পরিচারিকার কাজে নামতে হয়। সেখান থেকেই যা উপার্জন করতেন তা দিয়ে কোনও ক্রমে সংসার চালাতেন। তবে ছোট থেকেই দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার নেশা ছিল তাঁর। সেখান থেকেই আজ তিনি এখানে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন যে, রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তে চান না। কারণ, রাজনীতিতে জড়িত হলে সংসার সামলাবেন কে? কিন্তু তিনি মানুষের পাশে সব সময় থাকতে চান। ২০২১ সালে তাঁকে প্রার্থী করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। যদিও তিনি সেবার ভোটে জিততে পারেননি। কিন্তু বিজেপি তাঁর উপর থেকে ভরসা হারায়নি। ফের ২০২৬ সালে প্রার্থী করা হয় কলিতা মাঝিকে। আর এবার তৃণমূল প্রার্থীকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে হারিয়ে তিনি আউসগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন।
বিধায়ক হওয়াটা হয়তো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এমনটা কোনও দিন ভাবেননি কলিতা মাঝি। তিনি বলেন, হঠাৎ করে রাজনীতির একটা প্রস্তাব এসেছিল। তারপর থেকেই রাজনীতিতে আস্থা, ভরসার জায়গা তৈরি হয়। তাঁর সংযোজন, “আজ একটা ফোন এসেছিল। তখন শুধু বলা হয় যে কলকাতায় যেতে হবে। কিন্তু ঠিক কী কারণে যেতে হবে তখন বলা হয়নি।” সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে তিনি পরে জানতে পারেন যে, তিনি নাকি মন্ত্রী হচ্ছেন। খবরটা শুনে তিনি প্রথমে স্তব্ধ হয়ে যান। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে যখন টিকিট দেওয়া হয়েছিল সেটাই অনেক। মন্ত্রী হব কোনও দিন ভাবিনি। আমি এবার মানুষের পাশে থাকতে পারব।”
এমনকি বিধায়ক হিসেবে তিনি কী করবেন তা আগেই জানিয়েছিলেন। কলিতা মাঝি বলেন যে, “আমার জঙ্গলমহলে গত ১০-১৫ বছর ধরেও সরকার কোনও রকম উন্নয়ন করেনি। তবে একেবারেই যে উন্নয়ন করেনি এমনটা বলব না। করেছেন, শুধুমাত্র তাদের নিজেদের পকেট ভরিয়েছে। গাড়ি বাড়ি তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের কথা ভাবেনি। আমি পুরো জঙ্গলমহল ঘুরে দেখেছি। কোনও জায়গায় ঠিকমতো বাড়ি নেই, জল নেই, রাস্তা নেই, ঠিকঠাক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। এগুলি আমাকে দেখতে হবে। বিধায়ক হিসেবে নয়, বরং সাধারণ একজন মানুষ হিসেবেই সবার পাশে থাকবো।”










