আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: কোচবিহারের (Cooch Behar) তুফানগঞ্জে (Tufanganj) দুর্গাপ্রতিমা (Durga Idol) বিসর্জনকে (Immersion) কেন্দ্র করে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। জয় হিন্দ ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের সময় আচমকাই কর্মীদের মাথার উপর ভেঙে পড়ে বিশালাকার প্রতিমা। রায়ডাক বিসর্জন ঘাটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রতিমা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। সেই সঙ্গে প্রতিমার নিচে চাপা পড়ে যান তিনজন কর্মী। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনওরকমে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
এই দুর্ঘটনার পরেই প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পৌরসভার তরফে পর্যাপ্ত কর্মীর ব্যবস্থা করা হয়নি। যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই অনভিজ্ঞ ছিলেন বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বিসর্জনের সময় ক্লাব কর্তৃপক্ষ সাহায্য করতে চাইলেও তাঁদের প্রতিমা ধরতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। তাঁদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞ কর্মীদের উপস্থিতি থাকলে এই ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন তাঁদের হতে হতো না।
প্রতিমা ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়ডাক বিসর্জন ঘাটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গাপ্রতিমার মুখ-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ায় গভীর আঘাত পেয়েছেন ক্লাবের সদস্য ও এলাকার বহু মানুষ। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এর আগেও এই ঘাটে আরও বড় আকারের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতি জড়িয়ে থাকায় এই ঘটনায় তাঁদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিমার এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না পুজোর সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের আগেই সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এক ভারতীয়কেও, জানুন পরিচয়
ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সম্মান। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এই ঘটনার দায় প্রশাসনকে স্বীকার করতে হবে। ক্লাবের এক সদস্যের কথায়, “আমরা সাহায্য করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের প্রতিমা ধরতে দেওয়া হয়নি। ওরা যেভাবে ঠাকুরকে উল্টে ফেলে দিয়েছে, তাতে আর কোনও অংশ অক্ষত নেই। তিনজন লোক নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন। আমরা কোনওরকমে তাঁদের বের করেছি।” এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন।










