সাতসকালে কলকাতায় জোড়া অভিযান ইডির, পুলিশ আধিকারিকের ফ্ল্যাটে চলছে তল্লাশি

Published:

ED Raid in Kolkata

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় বাজছে ভোটের দামামা (West Bengal Election 2026)। চারদিন পরেই নির্বাচন। তবে তার আগেই শহর কলকাতায় বড়সড় অভিযান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED Raid in Kolkata)। তাও সাতসকালে দু’দুই জায়গায় অভিযান চালালো ইডি। দিনের আলো ফোটার আগেই তাদের অভিযান। সূত্রের খবর, এবার সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদারের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। পাশাপাশি বালিগঞ্জ ফার্ন রোডে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। চলছে জোরকদমে তল্লাশি। এমনকি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাঁদের মোবাইল।

ভোটের আগে তৎপর ইডি

ইডি সূত্রে খবর, সান এন্টারপ্রাইজ ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদারের বাড়িতে আজ সাত সকালেই চালানো হয়েছে অভিযান। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাঁদেরকে। এমনকি বারবার ডাকাডাকি করেও গেট খোলা হয়নি। পরে আনুমানিক ছ’টা নাগাদ গেট খোলা হয় বলেই খবর।

অন্যদিকে আজ বালিগঞ্জ ফার্ন রোডে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে হানা দিয়েছে ইডি। ভোরবেলায় অভিযান চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কালিঘাট থানার দায়িত্বে ছিলেন তিনি এবং বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডিসি পদে কর্মরত। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে আজ ইডি অফিসাররা তাঁর বাড়ির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বালিগঞ্জ ৩/২ ফ্রন্ট রোডের আবাসনের এক তলাতেই থাকেন শান্তনুবাবু। আবাসনের দুই গেট বন্ধ করেই চালানো হয় তল্লাশি। এমনকি ফ্ল্যাটে যাওয়া আসাও বন্ধ করে দেওয়া হয় ইডির তরফ থেকে।

সবথেকে বড় ব্যাপার, পরিবারের সদস্যদের সাথে যাতে যোগাযোগ করতে না পারে তার জন্য তাঁদের মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়। জোরকদমে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, এর আগে কয়লা পাচার মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। এমনকি তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল। পাশাপাশি আজ শান্তনু সিনহার আরও এক ঠিকানায় হানা দিয়েছে ইডি।

আরও পড়ুন: কলকাতার কাছে এক টুকরো ভিয়েতনাম, ঘুরে আসুন সবুজ তাপাং লেক থেকে

ভোর চারটে নাগাদ তাঁর বাড়ি থেকে সামান্য দূরে আরও এক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ওই আবাসনে পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামে। যার মধ্যে দু’টিতে হানা দিয়েছে ইডি। বলে রাখা ভালো, সোনা পাপ্পুর বাড়িতে হানা দেওয়ার সময়ই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম তদন্ত করতে গিয়ে উঠে আসে। আর সেই সূত্রেই আজ অভিযান।