লকডাউনে রেস্টুরেন্ট, ধাবা বন্ধ থাকলেও আয় কোটি কোটি টাকা, সুজিত বসুকে নিয়ে দাবি ED-র

Published:

ED On Sujit Bose Big update

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গতকাল রাতেই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে (Sujit Bose) গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার তৃণমূল নেতাকে আদালতে পেশ করে ইডি। এদিন আদালতের শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষের আইনজীবী জানান, সুজিত বসুর রহস্যজনক লেনদেনে নজর রাখছেন তারা। স্বভূমি প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ইডির আইনজীবীর বক্তব্য, একাধিক ভুয়ো সংস্থা এবং জমিতে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা হয়েছে।

সুজিত বসুকে নিয়ে উঠে এল নতুন তথ্য

এদিন আদালতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির পক্ষের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী একেবারে স্পষ্ট করে জানান, নানান ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন সুজিত বসু! বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থায় লগ্নি করেছেন তিনি! শুধু তাই নয়, এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে বলা হয়, করোনা মহামারীর সময় লকডাউন চলাকালীন সুজিত বসুর রেস্টুরেন্ট পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই রেস্টুরেন্ট থেকে কোটি টাকা উপার্জন করেছেন তিনি।

এদিন ইডির আইনজীবী আদালতে নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, লকডাউনের সময় সুজিত বসুর রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল ধাবা বন্ধ ছিল। কিন্তু তা সত্বেও সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন দেখা গিয়েছে। আইনজীবীর তরফে বলা হয়, দুর্নীতির চাকা চাইনিজ কুইজিনের রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল ধাবা এমনকি অপর একটি রেস্টুরেন্টে ক্যাশ ডিপোজিট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, লকডাউনের সময় 1.11 কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে, সুজিত বসুর রেস্টুরেন্টে। কোভিডের সময় রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল, কর্মীরা ছুটিতে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আয় বন্ধ হয়নি। কোটি কোটি টাকার বিক্রি দেখানো হয়েছে! আর এই গোটা বিষয়টিকে মানি লন্ডারিং হিসেবেই দাবি করে ইডি।

অবশ্যই পড়ুন: ফের পাকিস্তানের বুকে চলল ভয়াবহ জঙ্গী হামলা! নিহত ৯

প্রসঙ্গত, ইডি পক্ষের আইনজীবী এদিন এও বললেন, করোনার সময় ধাবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও 2 কোটি 20 লাখ টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল। সুজিত বসুর সাথে একাধিক ব্যক্তির লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। একাধিক সংস্থার সাথে লেনদেন করেছেন তিনি। অন্যদিকে সুজিত বসুর আইনজীবী বলেন, “ওনারা যে নথির উপর ভিত্তি করে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছেন সেসব 2022-23 সালের নথি। তাহলে 2026 সালের মে মাসে এসে এখন কেন গ্রেফতার? 2022 এ বয়ান নেওয়ার পর এখন গ্রেফতার করা হচ্ছে!” এদিন একাধিক তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীর আইনজীবী একেবারে খোলাখুলি জানান, “সুজিত বসু, প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি ছাড়া পেলে অন্যদের সতর্ক করে দেবেন। এতে তদন্ত ব্যাহত হবে। এদিন সুজিত বসুকে 10 দিনের হেফাজতে চায় ইডি। তবে প্রতিবেদনটি লেখার আগে পর্যন্ত বিচারপতিরা কোনও নির্দেশ দেননি।