ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত ২০০০ কর্মী! আদালতে তৃণমূল, কী বলল হাইকোর্ট?

Published:

Calcutta High Court

সহেলি মিত্র, কলকাতা: এবার ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে সরাসরি হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে এক ধাক্কায় ২০০০ দলীয় কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ ঘাসফুলের। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় দলীয় কর্মী হত্যা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সৌগত রায়। আরও বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল

তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার অভিযোগ, গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দলীয় কর্মী ও পার্টি অফিসগুলোর ওপর অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং শারীরিক আক্রমণের মতো বিপুল সংখ্যক ঘটনা ঘটেছে।রাজ্যজুড়ে ২,০০০-এরও বেশি টিএমসি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে দাবি করেছেন সৌগত রায়। আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করল তৃণমূল। সেই সঙ্গে দ্রুত শুনানির আর্জিও জানানো হয়েছে দলের তরফে।

কবে হবে মামলার শুনানি?

এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। মামলার গুরুত্ব বুঝে কলকাতা হাই কোর্ট দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর করছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও কবে এই মামলার শুনানি হবে সে সম্পর্কে এখনও অবধি জানা যায়নি। আইনজীবীর দাবি, গত ৪ মে বঙ্গ বিধানসভার ফল ঘোষণা হয়েছে। এরপর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে প্রায় ২০০০ তৃণমূল কর্মী হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অন্তত ৩৬৫টি তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাণহানির আশঙ্কায় বহু দলীয় কর্মী বাড়িছাড়া হয়ে রয়েছেন। যাতে সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায় সেই বিষয়টি তুলে ধরেন তৃণমূল কংগ্রেসের ওই আইনজীবী।

আরও পড়ুনঃ পদত্যাগের হিড়িক শিক্ষা দফতরে, প্রভাব পড়বে পড়ুয়াদের ওপর?

অন্যদিকে মঙ্গলবার নিজের এক্স বিস্ফোরক পোস্ট করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে কাঠগড়ায় তোলেন নতুন বিজেপি সরকারকে।  তিনি লেখেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তবুও প্রতিটি ন্যায়ের আহ্বান বৃথা।আমাদের নিবেদিত কর্মীরা – সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং তপন শিকদার বিজেপি সমর্থিত গুন্ডাদের দ্বারা নির্মমভাবে আক্রান্ত হন। মর্মান্তিকভাবেই দুজনেই গুরুতর আঘাতের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।

অভিষেক লেখেন, ‘পুলিশ – নিষ্ক্রিয়, কোর্ট – নীরব দর্শ, বিজেপি নেতারা উদযাপন করতে ব্যস্ত, প্রধানমন্ত্রী  পরবর্তী বিদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। এই লজ্জাজনক নীরবতার মধ্যে, সাধারণ মানুষ বিজেপির হিংসা, প্রতিশোধ এবং সম্পূর্ণ আইনহীনতার রাজনীতির ফল ভোগ করছে।’