সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানির আগে মিলল ৫০,০০০ টাকা

Published:

Bengal DA Case

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বকেয়া ডিএ মামলায় (Bengal DA Case) রীতিমতো দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে সরকারি কর্মীদের। সরকার আশ্বাসের পর আশ্বাস দেওয়ার পরেও অনেকেই আছেন এখনও অবধি টাকা পাননি। দীর্ঘদিনের শারীরিক, মানসিক লড়াই সকলকে রীতিমতো কাহিল করে তুলেছে। যদিও হকের টাকা ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর বাংলার সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকরা। যাইহোক, এরই মাঝে ডিএ (Dearness allowance) মামলায় সামনে এল বড় আপডেট।

ডিএ মামলায় নয়া মোড়

বাংলার ডিএ মামলায় নয়া মোড় নিয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)। তিনি জানালেন, সংগঠন এই মামলায় আর্থিক সাহায্য পেয়েছে। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ওয়েস্ট বেঙ্গল পেনশনার্স ফেডারেশন হাওড়া জেলা আগামী ডিএ মামলার খরচ জোগাতে অর্থ সাহায্য করেছে।’ কত টাকা?

মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘১৭ জুলাই কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের হাতে ৫০ হাজার টাকা নগদ তুলে দিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল পেনশনার্স ফেডারেশন হাওড়া জেলা। এর জন্য পেনশনার্স ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে নানা মানুষ নানা কমেন্ট করেছেন। একজন লিখেছেন, অভিনন্দন জানাই এবং পাশে আছি।মলয় বাবু প্রসঙ্গ ক্রমে জানাই কো অর্ডিনেশন কমিটির অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে একসময় চিন্তামণিদা সাধন দা দের সঙ্গে ছিলাম। তারপর সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ও মত ভেদ হওয়ায় শত অত্যাচার ও বাধা কে অতিক্রম করে (মনোজ চক্রবর্তী) ফেডারেশন এর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সল্টলেকে সিপিএম এর হেড অফিস (ওরা বলতো দ্বিতীয় আলিমুদ্দিন )সেচ ভবন এ সংগঠন গড়ে ছিলাম। পরে দেখলাম এরাও তৃণমূলের রাজনৈতিক সংগঠন এর চাটুকারিতায় ব্যস্ত। আমি তো আঞ্চলিক স্তরের কর্মচারী। ফলে অনেকটা অচ্ছুৎ ও হরিজন সম্প্রদায়ের মতো ব্যবহার পেয়ে এবং বেনো জল সংগঠনে ঢুকে কো অর্ডিনেশন কমিটি যা যা করেছিল সেটাই এরা ও করতে শুরু করায় সংগঠন ছেড়ে বেরিয়ে আসি। তারপর অবসর নিয়েছি ২০১৬। পেনশন এর অল্প টাকায় কোনো রকমে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে আছি। কর্মচারী দের পাশে থাকার জন্য (বিশেষ করে অবসর প্রাপ্ত )আপনাদের সংগঠন এর ভূমিকায় আমি আশাবাদী।যারা সংগঠন এর নামে সরকারের চাটুকারিতা করছে ও অক্টোবর মাসে ২০%DA /DR পাওয়ার খবরে মিষ্টি খেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে তাদের মুখোশ খুলে যাক। এজন্য আন্তরিক ভাবে কামনা করি আগামী ২২শে জুলাই মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট এ আপনাদের জয়লাভ হোক। সার্থক হোক আপনাদের আন্দোলন। কর্মচারী সমাজ তাদের হকের টাকা এবং মর্যাদা পান।’

আরও পড়ুনঃ রাজ্যবাসীকে বিনামূল্যে সোমনাথ যাত্রা করাবে নবান্ন, জানুন আবেদন পদ্ধতি

অপর একজন লিখেছেন, ‘যে যেমন পারে তার তেমন তো দেওয়া উচিৎ। মামলার জন্যেই তো আমরা হকের টাকা ফেরৎ পেলাম।’ আরও একজন লিখেছেন, ‘টাকা পাঠাতে চাই।কি ভাবে পাঠাবো। একটু জানাবেন।ধন্যবাদ।’ অপরজন লিখেছেন, ‘অভিনন্দন জানিয়ে বলছি এই সরকার ই বা সুপ্রিম কোর্টের রায় কে কি মান্যতা দিলেন। KMC এলাকাধীন পেনশনাররা তো এখনো পর্যন্ত কিছুই পেলেন না। যারা দিবেন , সেই সব কর্মচারীদের সদিচ্ছা ও সততা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির কোন অস্তিত্ব আছে কি? যদি থাকে উনারা কি জানেন না যে KMC এলাকার বৃদ্ধ এমন কি অতি বৃদ্ধেরা ও কেউ বকেয়া DR পাননি? যদি জেনে থাকেন তাহলে তাঁরা কি ব্যবস্থা নিলেন? জানবার নিষ্ফল অভিপ্রায় রইল।’

কবে হবে ডিএ মামলার শুনানি?

এখন সকলের মুখে একটাই কথা, কবে হবে ডিএ মামলার শুনানি? বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি পি কে মিশ্রর আদালতে বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি চলছে। ২২ জুলাই পরবর্তী শুনানির নির্ধারিত দিন থাকলেও তা কয়েকদিন এদিক-ওদিক হতে পারে বলে মামলাকারী সংগঠন জানতে পেরেছে। যদিও চূড়ান্ত দিনক্ষণ এবং আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার।