হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ, সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করাল দিল্লি পুলিশ

Published:

Sonam Wangchuk

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২০ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসার কারণে শারীরিকভাবে ক্রমেই ভেঙে পড়েছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। বারংবার তিনি অনশন মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। আর এবার এই নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। অনশনের ২১ তম দিনে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তুলে আজ ভোরে কড়া পুলিশি পাহারায় একপ্রকার বলপ্রয়োগ করে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। চলছে চিকিৎসা।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙাল দিল্লি পুলিশ!

টানা ২০ দিন ধরে না খেয়ে সোনম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৯ কেজি কমে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তিনি শারীরিক ভাবে ক্রমশ অশক্ত এবং অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। তাই এই পরিস্থিতিতে কোনো রকম রিস্ক না নিয়ে ‘সক্রিয় হল’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রক পরিচালিত দিল্লি পুলিশ! জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে যন্তরমন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদেরও সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বিক্ষোভস্থলে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, নিট কেলেঙ্কারির পরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন ককরোচ জনতা পার্টি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ শুরু করে। আর তার সাত দিন পরেই সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরু করেছিলেন।

আরও পড়ুন: অবশেষে খোঁজ মিলল শুটার দময়ন্তী সেনের, কোথায় ছিল সে?

অনশন নিয়ে হাইকোর্টের বিশেষ নির্দেশ

অনশনের প্রতিবাদ যখন ধীরে ধীরে বড় আকার নিচ্ছিল, তখন গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রকে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, অনশনরত সোনমের জীবনরক্ষায় যা প্রয়োজন, তা-ই করতে হবে। সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে প্রতিদিন ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, তা হলে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে হবে কেন্দ্রকে। এবার সেই নির্দেশ মেনে তার দু’দিনের মাথাতেই পদক্ষেপ করল দিল্লি পুলিস।

আরও পড়ুন: জায়ান্ট স্ক্রিনে জেলায় জেলায় দেখানো হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল, বড় উদ্যোগ সরকারের

দিল্লির পুলিশ কমিশনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, “হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে স্থান খালি করার অনুরোধ জানাচ্ছি।” অন্যদিকে আজ সকালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে আন্দোলনকারীদের একাংশ সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন যে ওয়াংচুকের ওপর গতকাল রাতে নাকি হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পুলিশ বা হাসপাতাল সূত্রের খবর, তাঁর শরীরে কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মেলেনি।