সহেলি মিত্র, কলকাতা: অবশেষে স্বস্তি, খোঁজ মিলল দময়ন্তী সেনের (Damayanti Sen)। ফেসবুকে এমনটাই জানালেন তাঁর মা মৌমিতা রায় সেন। রথের দিন বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় মধ্য হাওড়ার বাসিন্দা ও জাতীয় স্তরের শুটার বছর ১৫-র দময়ন্তী সেন। নানা সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজে দতাঁকে শেষ দেখা যায় হাওড়া স্টেশনে। বাড়ির জন্য দুধ কিনতে বেরিয়ে সে সেখানে কীভাবে পৌঁছে গেল আর নিখোঁজই বা কেন হয়ে গিয়েছিল, তা ভেবে উঠতে পারছিলেন না কেউ, তবে এখন স্বস্তি। মেয়ের খোঁজ পেয়ে নিশ্চিন্ত সেন পরিবার।
খোঁজ মিলল ‘নিখোঁজ’ শুটার দময়ন্তী সেনের
তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আজ ভোরবেলা রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে আমার মেয়ে দময়ন্তী সেনকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। ঈশ্বরের অসীম কৃপায় সে আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। এই কঠিন সময়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন—আমাদের পরিবার আত্মীয় স্বজন,বন্ধু,সহকর্মী, পুলিশ প্রশাসন, রাজ্য সরকার, সোশ্যাল মিডিয়ার অসংখ্য মানুষ, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রত্যেক শুভাকাঙ্ক্ষী—আপনাদের সকলের প্রতি আমাদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমার মেয়ের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা, সহযোগিতা এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টার ঋণ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই দুঃসময়ে আপনারা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই ভালোবাসা ও মানবিকতা আমরা কোনোদিন ভুলব না।সকলের প্রতি আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ঈশ্বর আপনাদের সকলের মঙ্গল করুন।’
কী ঘটেছিল?
উল্লেখ্য, উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা, জাতীয় স্তরের শুটার ১৫ বছর বয়সী দাময়ন্তী সেনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দময়ন্তীকে শেষবার তার বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে হাওড়া স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেখা গিয়েছিল। তিনি সকাল ৯টার দিকে সামান্য কিছু নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এবং তার মোবাইল ফোনটি বাড়িতে রেখে গিয়েছিল, যার ফলে তদন্তকারীদের পক্ষে তার গতিবিধি অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা যাওয়া আরও সহজ! সূচনা হল নতুন বাস রুটের, মহিলা নয়, এদের লাগবে না ভাড়া
কী বলছেন সাধারণ মানুষ?
অনেকেই তাঁর এই পোস্টে কমেন্ট করেছেন। একজন লিখেছেন, খুব সম্ভবত তাঁর পরিচিত, ‘খুব ভালো খবর রে আমরা সবাই খুব চিন্তায় ছিলাম , মেয়েকে সাবধানে রাখিস।’ অন্য একজন লেখেন, ‘প্রভু জগন্নাথকে অশেষ ধন্যবাদ যে তোমার মেয়েকে তোমার কাছে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছে .. শুনে শান্তি পেলাম।’ অপর আরেকজন লিখেছেন, ‘খুব ভালো খবর, ঈশ্বরের অসীম কৃপা মেয়েকে খুব আদর করে আরো অনেক অনেক ভালোবাসায় ভরিয়ে দিও যাতে বুঝতে পারে বাবা মার থেকে পৃথিবীতে আর কেউ কাছের হয় না। ভালো থেকো সবাই।’ আরও একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘খুবই আনন্দের সংবাদ ।কেন এমন ঘটনা ঘটেছে গভীর বিশ্লেষণ ও অনুভব কর। সবাই সাবধানে থেকো, ভালো থেকো এই কামনা করি।’










