ট্রাক-ক্রেন এনে ৫০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কামান চুরি, ভয়ঙ্কর কাণ্ড নারওয়ার দুর্গে

Published:

Narwar Fort Canon

অনন্যা সরকার, ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার ঐতিহাসিক নারওয়ার দুর্গ (Narwar Fort) থেকে সশস্ত্র অপরাধীদের দ্বারা সিন্ধিয়া রাজবংশের ৫০০ বছরের পুরনো একটি কামান লুঠের (Cannon Theft) ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা দুর্গের নিরাপত্তা এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের (ASI) সুরক্ষা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। নারওয়ার দুর্গে ঐতিহাসিক ১৪টি কামান ছিল, একটি চুরি যাওয়ায় এখন সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দুর্গের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঐতিহাসিক বস্তু চোরাচালানের নেটওয়ার্কটির উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীদের প্রবেশ

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের রাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র অপরাধী দুর্গে প্রবেশ করে। তারা ট্রাক ও ক্রেনের মতো যন্ত্রপাতি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। দুর্গের খোলা চত্বরে রাখা ছিল ১৪টি ঐতিহাসিক কামান। তার মধ্যে থেকে ৩,০০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান অষ্ট-ধাতুর কামান চুরি করে নিয়ে যায় তারা।

ঘটনার সময় ডিউটিতে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছিল এবং তারা নিরাপত্তারক্ষীদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পিছু হটতে বাধ্য করে। দুর্গটিতে পর্যাপ্ত আলো বা এমনকি টর্চও ছিল না। আর নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে শুধু লাঠি ছিল। ঘটনার পর দুর্গ কমপ্লেক্সে মাত্র ১৩টি কামান অবশিষ্ট রয়েছে।

আরও পড়ুন: মাইলেজ ৩০ কিমি, ১.৮২ লাখ টাকা ছাড় মিলছে ধামাকাদার এই SUV-তে

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, দুষ্কৃতকারীরা দুর্গের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকেছিল। তারা আগেই থেকেই জানতো যে, কোন কামানটি তারা লুঠ করবে, সেটি কোথায় রাখা আছে এবং সেটাকে সরাতে কতজন লোক লাগবে। তাই ২৫ থেকে ৩০ জন দুষ্কৃতীর সাথে একটি মাল বোঝাই করার গাড়িও ছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল প্রায় ১২ দিন আগেও দুর্গের ভেতরে ও আশেপাশে সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা নিরাপত্তা বাড়ায়নি, এমনকি অতিরিক্ত নজরদারিও চালনো হয়নি।

কেন বিশেষ এই চুরি যাওয়া কামান ?

প্রত্নতাত্ত্বিকরার জানাচ্ছেন, এই কামানটি ষোড়শ শতাব্দীর। এটি ভারতীয় সামরিক ইতিহাস এবং তখনকার উন্নত ধাতুবিদ্যা কৌশলের একটি নিদর্শন। কামানের ওপর বিশেষ খোদাই এবং ঐতিহাসিক চিহ্নগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে উঠেছে। অর্থ দিয়ে এই ঐতিহাসিক সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না, তবে অবৈধ অ্যান্টিকের বাজারে বিক্রি করলে লক্ষ লক্ষ টাকা পাওয়া যেতে পারে। তাই, পুলিশ সন্দেহ করছে যে এই ঘটনার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চোরাচালানকারী চক্র যুক্ত থাকতে পারে। 

আরও পড়ুন: নিম্নচাপের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ২ জেলায়, আজকের আবহাওয়া

জানিয়ে রাখি, বর্তমানে পুলিশ এই অজ্ঞাত পরিচয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, সাইবার সেলের সহায়তায় ঐতিহাসিক বস্তু চোরাচালানের সাথে জড়িত নেটওয়ার্কটিকেও তদন্ত করে খোঁজার চেষ্টা চলছে।