অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষার বৃষ্টিস্নাত বিকেলগুলোতে মনটা কি হু হু করে ওঠে? কফির কাপ হাতে ব্যালকনি থেকে অবিরাম বৃষ্টিধারা দেখতে দেখতে শহরের কোলাহল ছেড়ে মন কি চলে যায় নিস্তব্দ সবুজে ভরা বনাঞ্চলে? বর্ষাকালে ভ্রমণের জন্য আশেপাশেই আছে অনেক টুরিস্ট স্পট। আজ নিয়ে যাবো প্রতিবেশী রাজ্যে। ওড়িশার খান্ডাধার (Khandadhar) – নামটা অনেকের কাছেই নতুন হতে পারে, তবে এই অপূর্ব মনোরম জলপ্রপাতকে ঘিরে রাখা শান্ত সবুজ বনভূমিতে পর্যটকরা খুঁজে পান শান্তির আশ্রয়। উড়িষ্যার সুন্দর গড় জেলায় অবস্থিত ২৪৪ মিটার উঁচু এই জলপ্রপাতটি রাজ্যের দ্বিতীয় ও ভারতের ১২তম সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। এর পাশেই গড়ে উঠেছে নেচার ক্যাম্প। আসুন তাহলে ওড়িশার এই অফবিট (Offbeat Odisha) স্পটটির সর্ম্পকে আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
ঘুরে দেখুন ওড়িশার খান্ডাধার জলপ্রপাত
খান্ডাধার কথাটি এসেছে ‘খণ্ডা’ (তলোয়ার) ও ‘ধার’ (জলপ্রপাত) এই দুই শব্দ থেকে। তলোয়ারের মতো আকৃতির জন্যই এই নামকরণ। করপানি নালা নামের এক ছোট চিরপ্রবাহী নদী ২৪৪ মিটার উঁচু থেকে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়ে তৈরি করেছে এই অপরূপ মনোরম জলপ্রপাতটি। ঝর্নার ছলছল শব্দ, পাখির ডাক আর সবুজের সমারোহ দেখা যায় খান্ডাধারে। বর্ষায় এর রূপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়, পূর্ণ উদ্যমে বইতে সাথে জলধারা, যা অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে দেয় পর্যটকদের মন।
আরও পড়ুন: কলকাতা যাওয়া আরও সহজ! সূচনা হল নতুন বাস রুটের, মহিলা নয়, এদের লাগবে না ভাড়া
খান্ডাধার জলপ্রপাতকে ঘিরে থাকা ঘন সবুজ বনভূমির দিকে তাকালে হয় চোখের আরাম, এক নিমেষে কেটে যায় সব ক্লান্তি। তখনই ব্যাগ কাঁধে তুলে ঘুরে আসা যায় জঙ্গলের রহস্যঘেরা পরিবেশ থেকে। এই বনে রয়েছে শাল, সেগুন, পলাশ, কুসুম, আকাশমণি সহ প্রায় ৬০০ প্রজাতির গাছ। দেখা মেলে প্রচুর পরিমাণে ওষধি উদ্ভিদেরও। তবে শুধু গাছই নয় খান্ডাধার জীববৈচিত্র্যের জন্যও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি হটস্পট। এখানে হাতি, ভাল্লুক, শিয়াল, নেকড়ে, বন্য শূকরের মতো প্রাণীর মুক্ত বিচরণক্ষেত্র।
খান্ডাধার কীভাবে যাবেন ও কোথায় থাকবেন?
কলকাতা/ হাওড়া থেকে খান্ডাধার যাওয়ার সবচেয়ে ভালো ও সহজ উপায় হল কেন্দুঝড় (কেওনঝড়) বা রৌরকেল্লা পর্যন্ত ট্রেনে করে যাওয়া। তারপর সড়কপথ ধরে পৌঁছানো যায় গন্তব্যে। হাওড়া স্টেশন বা শালিমার থেকে ধৌলি এক্সপ্রেস বা জন শতাব্দী এক্সপ্রেস ধরে যাজপুর কেন্দুঝড় রোড স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি বা ট্যাক্সি ধরে কেন্দুঝর রোড হয়ে খান্ডাধার পৌঁছানো যায়। আর রৌরকেল্লা স্টেশনে নেমেও সড়কপথে সরাসরি পৌঁছানো যায়। আর কলকাতা থেকে সড়কপথেও ৮ থেকে ৯ ঘণ্টায় সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যায় এই অফবিট স্পটে। দূরত্ব ৪৯৫ কিলোমিটারের মতো।
আরও পড়ুন: বর্ষায় ঘুরে আসুন পশ্চিমবঙ্গের এই ৫টি অফবিট ডেস্টিনেশন থেকে
থাকার জন্য সরকারি উদ্যোগে তৈরি খান্দাধার ইকো-ট্যুরিজম ক্যাম্পে টেন্ট ও রিসর্টের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া কেন্দুঝড় শহরেও পান্থনিবাস ও বাজেট হোটেল মিলবে। তবে প্রকৃতির কোলে থাকতে চাইলে নেচার ক্যাম্প বেছে নেওয়াই ভালো। বর্ষা ও তার পরবর্তী সময় অক্টোবর মাস পর্যন্ত খান্ডাধার ঘোরার উপযুক্ত সময়। চাইলে এই জলপ্রপাতের পাশাপাশি কাছাকাছির মধ্যে টেনসা ভ্যালি, গুডগুডা জলপ্রপাত, কনাকুন্ড এবং দুংলাই পাহাড়েও ঢুঁ মেরে আসতে পারেন।










