সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চোরবাগানের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা (Chorbagan Incident) থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার এবং মেডিকেল ইমারজেন্সি না থাকার জেরে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলেই দাবি দর্শনার্থীদের। তবে ওই ঘটনার পর আরও সতর্ক রাজ্য সরকার। দশমী পর্যন্ত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এমনকি বড় বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে সরকারি চিকিৎসকদের মোতায়েন থাকতে হবে বলে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
দশমী পর্যন্ত ছুটি বাতিল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের
কলকাতার পাঁচটি বড় বড় মেডিকেল টিমকে এবার বড় বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে মোতায়েন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে। সেই সূত্রে শিয়ালদহের সন্তোষ মিত্র স্কয়ারে থাকতে হবে মেডিকেল কলেজের টিমকে। টালা প্রত্যয়ে থাকবে আরজি কর মেডিকেল কলেজের টিম। কলেজ স্কয়ারে মেডিকেল কলেজের টিম, একডালিয়া এভার গ্রিনে মেডিকেল কলেজের টিম, চেতলা অগ্রণীতে এসএসকেএম-এর মেডিকেল টিম থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এমনকি স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে পুজো মণ্ডপগুলিতে বিকেল পাঁচটা থেকে পরের দিন সকাল ছয়টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের ডিউটি দিতে হবে। শনিবার এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব ভিডিও কনফারেন্স করে রাজ্যের সমস্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, মেডিকেল কলেজগুলির অধ্যক্ষ এবং এসএসভিপিদের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা করেছেন। এমনকি প্রত্যেকটি পুজো মণ্ডপের পাশে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, রক্ত এবং অক্সিজেন যোগান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: “মানিয়ে নিতে অসুবিধা হচ্ছে” বিজেপি ছাড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক
উল্লেখ করে রাখি, শনিবার সপ্তমীর আনন্দ এক মুহূর্তেই মাটি হয়ে যায় চোরবাগান পুজো মণ্ডপে। বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের এবং আহত হন আরও ২৫ জন। তারপর থেকেই তৎপর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিআইপি পাস বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি নিহত পরিবারগুলিকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকারি চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চোরবাগান সংলগ্ন বউবাজার এলাকার বেশ কিছু এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। তার পাশাপাশি শহরের অন্যান্য বড় বড় মণ্ডপগুলির ঝাঁপ বন্ধ করা হয়েছে কমিটির তরফ থেকে।










