কষ্ট কমবে এলাকাবাসীর, লালগড়-গোপীবল্লভপুর-নয়াগ্রাম পাচ্ছে নতুন রেলপথ

Published:

Indian Railways

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ঝাড়গ্রাম (Jhargram) থেকে ট্রেন ধরতে হলে যেতে হয় 45 কিলোমিটার দূরে। ওদিকে খড়গপুর স্টেশন 65 কিলোমিটারের কাছাকাছি। অর্থাৎ ট্রেনে চেপে গন্তব্যে পৌঁছতে হলে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে তবেই রেল যোগাযোগ (Indian Railways) ব্যবস্থা সুবিধা নিতে পারেন গোপীবল্লভপুরের মানুষজন। মূলত সে কারণেই, এলাকায় একটা রেললাইন পাতার দাবি জানিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। যদিও তৃণমূল সরকারের আমলে সেই দাবি পূরণ হয়নি গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দাদের। তবে রাজ্যে ক্ষমতা বদল হতেই একে একে অন্যান্য রেল প্রকল্পের মতোই এই অংশে রেললাইন নির্মাণের দাবিও পূরণ হতে চলেছে।

শীঘ্রই রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে গোপীবল্লভপুর

গতকাল অর্থাৎ শনিবারই, রাজ্যে এসেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নবান্নের সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বৈঠক হয় তাঁর। আর সেখান থেকেই বাংলায় শিলিগুড়ি-দিল্লি বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি রাজ্যের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রেলের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন রেলমন্ত্রী। সেই সাথে, একযোগে লালগড়, গোপীবল্লভপুর এমনকি নয়াগ্রামকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রী।

না বললেই নয়, বছরের পর বছর ধরে একটা রেললাইনের জন্য হাজারো অনুরোধ করার পর অবশেষে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে নিজেদের এলাকায় রেললাইন বসতে চলেছে। ভবিষ্যতে সেখান থেকেই গড়াবে ট্রেনের চাকা। এটা ভেবেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দারা। গোপীবল্লভপুর থেকে শুরু করে নয়াগ্রাম এমনকি লালগড়ে রেললাইন পাতা হলে একদিক থেকে যেমন সাধারণ মানুষের ট্রেনের জন্য ভোগান্তি কমবে, তেমনই জেলার প্রান্তিক এলাকাগুলিতেও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

 

অবশ্যই পড়ুন: ব্যারাকপুর মেট্রো থেকে অমৃত ভারত স্টেশনের দাবি, রেলমন্ত্রীকে চিঠি কৌস্তভের

প্রসঙ্গত, গোপীবল্লভপুরে রেললাইন না থাকায় এলাকাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম বলতে কিছুই নেই! তাই দিনের পর দিন ধরে রেললাইন তৈরির দাবি জানিয়ে এসেছিল সুবর্ণরৈখিক রেলপথ সংগ্রাম কমিটি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে গোবিবল্লভপুরে রেললাইন তৈরি করা হোক এমন দাবি নিয়ে এখানকার বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী রাজেশ মাহাতোর সাথেও বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। সেই বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রীকে গোটা বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজেশ বাবু। শেষ পর্যন্ত, সেই মতোই এবার রেললাইন তৈরির দাবিতে পড়ল সিলমোহর। এই অঞ্চলের পাশাপাশি লালগড় এবং নয়াগ্রামেও যে নতুন রেলপথ তৈরি হবে তা জেনে উচ্ছ্বসিত এই দুই অঞ্চলের বাসিন্দারা।