ইসকন পাঠাবে মুখ বন্ধ করা পাত্রে খাবার, কাজ হারাবেন স্কুলের মিড-ডে মিল কর্মীরা?

Published:

Mid Day Meal Worker

অনন্যা সরকার, কলকাতা: মিড-ডে মিলের (Mid Day Meal) খাবার তৈরির যাবতীয় দায়িত্ব এবার স্কুলের ওপর থেকে তুলে নিল সরকার। ইসকনের (ISKCON) তত্ত্বাবধানে রান্না করা খাবার মুখ বন্ধ পাত্র করে স্কুল স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে। ঢাকনা খুলে ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশন করা ও খাওয়া হয়ে গেলে বাসনগুলি ধুয়ে ফেরত দেওয়ার ছাড়া আর কোনও দায়িত্বই থাকবে না স্কুলের কাঁধে বলে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলির মিড ডে মিলের দায়িত্বে থাকা ইসকন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে স্কুলগুলিতে যারা এতদিন মিড-ডে মিলের রান্না করতেন (Mid-Day Meal Workers), তাদের মনে কাজ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কী জানা গেছে এবিষয়ে, আসুন দেখে নিই। 

কাজ যেতে পারে  মিড-ডে মিল কর্মীদের

যেদিন থেকে জানা গিয়েছে ইসকন এবার থেকে মিড ডে মিলের খাবার তৈরির দায়িত্ব থাকবে, সেদিন থেকেই যারা এতদিন মিড-ডে মিলের রান্না করছিলেন তাদের কাজ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সারা বাংলা মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের যুগ্ম-সম্পাদক নীলাঞ্জনা কর কলকাতা পৌরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে ইসকনের খাবার দেওয়ার এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্র সরকারের এই মিড ডে মিল প্রকল্পটির নাম পিএম পোষণ (PM Poshan), প্রধানমন্ত্রীর নাম জড়িত থাকা প্রকল্পে কিভাবে বেসরকারি সংস্থা খাবার সরবরাহ করতে পারে? তাছাড়া মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের গরম খাবার পরিবেশন করার কথা, ইসকনের পাঠানো মুখ বন্ধ পাত্রের খাবার গরম থাকবে কিনা সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 

এছাড়া, মিড ডে মিলের কর্মীদের কাজ হারানোর আশঙ্কা করছেন নীলাঞ্জনা কর। তিনি জানান, স্কুলের পড়ুয়াদের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে মিড-ডে মিল কর্মীদের নিযুক্ত করা হয়। যেসব স্কুলে বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে, সেখানে প্রায় ৭ থেকে ৮ জন মিড ডে মিল কর্মী কাজ করেন। কিন্তু শুধুমাত্র খাবার পরিবেশনের কাজে এত লোকের প্রয়োজন হবে না, ফলে আগামী দিনে অনেক মিড ডে মিল কর্মীর কাজ চলে যেতে পারে। এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নীলাঞ্জনা।

এদিকে ইসকন কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, মিড-ডে মিলের গুরুভার স্কুলের কাঁধ থেকে নামতে চলেছে। আগে প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারা মিড-ডে মিল সংক্রান্ত নানা দায়িত্ব পালন করতেন। স্কুলের পঠন-পাঠনের দায়িত্ব ছাড়াও, মিড-ডে মিলে কারা রান্না করছেন, কী বাজার হচ্ছে বা মেনুতে কী রয়েছে- তাই নিয়েও তাদের মাথা ঘামাতে হত। এমন কি খাবারের মান খারাপ হলে বা কোনো দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও শিক্ষকদের দিকেই আঙুল তোলা হত। তাই স্কুলের কাঁধ থেকে এই দায়িত্ব নেমে যাওয়ায় তারা পড়ুয়াদের পড়াশোনা ও স্কুলের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে আরও ভালোভাবে মনোনিবেশ করতে পারবেন। 

শোনা যাচ্ছে, কলকাতা পুরসভা অঞ্চলের সমস্ত স্কুলের রান্না হয়তো একটি রান্নাঘরে করা হবে না। কটি রান্নাঘরে মিড-ডে মিলের রান্না হবে, তা এখনও স্থির করেনি ইসকন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, শহরের যানজটের কথা মাথায় রেখে স্কুল থেকে বেশি দূরের রান্নাঘর থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে না। তাই স্কুলের তালিকা আসার পরে স্থির করা হবে, কটি রান্নাঘর থেকে খাবার পাঠানো হবে।