১৩ বছরেও মেলেনি বিচার! নতুন তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ কামদুনির টুম্পা-মৌসুমিরা

Published:

Kamduni Gang Rape And Murder Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই একের পর এক পুরোনো ফাইল খুলছে নয়া বিজেপি সরকার। জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ী এবার যে সকল দোষীরাই সাজা পাবে তা প্রথম থেকেই চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকার। এমতাবস্থায় খবরের শিরোনামে উঠে এল কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের মামলা (Kamduni Gang Rape And Murder Case)। প্রায় ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এখনও কোনো বিচার পেল না নির্যাতিতার পরিবার। সেই কারণে এবার সিআইডি-র তদন্তে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা।

মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির কামদুনির পরিবার

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ বুধবার কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হন কামদুনি-আন্দোলনের দুই প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চললেও এখনও মামলার নিষ্পত্তি মিলছে না। নির্যাতিতার পরিবারের এক সদস্য জানান, “পূর্বের সরকার ১৬টা পিপি চেঞ্জ করেছে ভোট ব্যাঙ্কিংয়ের জন্য। বিচার পাইনি আমরা। অভিযুক্তরা হাইকোর্টে আপিল করে, ফাঁসি ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের আসামিকে আদালত বেকসুর খালাস করে দিল। আজ এতগুলো বছর পেরিয়ে গেল আমরা বিচার পেলাম না। তাই কামদুনি মামলার ফাইল আবার নতুন করে খোলা হোক, এটাই আমাদের প্রধান দাবি।”

নতুন করে ফাইল খোলার দাবি পরিবারের

CID তদন্ত এবং মামলার অগ্রগতি নিয়ে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দুই প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী টুম্পারা। তাই তাঁদেরও স্পষ্ট দাবি, এই মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরই গোটা রাজ্যে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। কিন্তু এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার এখনও কোনো সঠিক তদন্ত হল না। জানা গিয়েছে, এখনও মামলা আদালতের গণ্ডিতে রয়েছে, নিষ্পত্তি হয়নি। কবে বিচার মিলবে তাও কেউ জানে না।

আরও পড়ুন: সাতসকালে অন্ডালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পুরনো জলের ট্যাঙ্ক

প্রসঙ্গত, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মুখে শোনা গিয়েছিল কামদুনির ফাইল খোলার কথা। কিছুদিন আগে বারুইপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কামদুনি মামলার আইনি টানাপোড়েন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কামদুনি কেসে বারাসাত কোর্টে দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তারপরে হাইকোর্টে ১৬ জন পিপি চেঞ্জ করে। প্রপার মনিটরিংয়ের অভাবেই হোক বা যেভাবেই হোক, হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে দেয়। মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় এতদিন রাজ্য সরকার অপোজ করছিল, তবে এবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর বিরোধিতা করা হবে না। আমরা নির্যাতিতার পরিবারকে সরকারি আইনজীবী দিয়ে সম্পূর্ণ সাপোর্ট দেব।”