সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর ইতিহাসে সবচেয়ে কালিমালিপ্ত দিন হিসেবে হয়তো শনিবারের কথাই লেখা থাকবে! চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের (Chorbagan Incident) বিপর্যয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৭ জনকে। তবে গতকাল ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল? শুধুই কি পুজো কমিটির গাফিলতি নাকি অন্য কিছু? সেই ভয়াবহ দৃশ্যের স্মৃতিচারণ করলেন স্বজনহারা দুই মহিলা।
গতকাল ঠিক কী ঘটেছিল চোরবাগানে?
উৎসবের আনন্দ এক মুহূর্তেই মাটি হয়ে যায় শনিবার। সন্ধ্যা তখন সাতটা। উপচে পড়া ভিড় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে। তবে কাল হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টি। ঝমঝমিয়ে হঠাৎ করে বৃষ্টি নামায় ভিড় জমতে শুরু করে মণ্ডপের ভিতরেই। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, থিম পুজোর কারণে ভেতরটা ছিল পুরো অন্ধকার। তবে অত্যাধিক চাপে সেই মণ্ডপই ভেঙে পড়ে। এমনকি ঢোকা এবং বেরোনোর গলি অত্যন্ত সরু হওয়ায় সেখানেই ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা। আর সেই ঘটনায় প্রাণ যায় ১৯ জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি ২৫ জন। তবে সেই দৃশ্যের বেশ কিছু ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই পুজো কমিটির তরফ থেকে মাইকিং-এ প্রচার করা হচ্ছে, “এক্সিট গেট খুলে দাও, এন্ট্রি গেট খুলে দাও… মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। মণ্ডপের দিকে কেউ আসবেন না। মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। মণ্ডপ ভেঙে গিয়েছে। আপনারা অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যান।” তবে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে সেই মণ্ডপের ভিতরেই ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। আর সেখানেই ঘটে এই পদপিষ্ঠের ঘটনা।
🚨 More shocking visuals coming from Chorbagan Sarbojonin Durga Puja pandal when the mass stampede happened ⚠️
People can been seen crying helpless. A wrong announcement led to confusion & panic 😔
This is so painful. I am speechless. Om Shanti 🙏🏻
P.S – Collected Videos https://t.co/6ay29YbH1t
— Dr. Abhinaba Pal (@drabhinabapal7) October 17, 2026
আরও পড়ুন: পুলিশকর্মীদের জন্য সুখবর! থানায় জিম, রেশন ভাতা বৃদ্ধি ও ছুটির ঘোষণা রাজ্য সরকারের
অন্যদিকে স্বজনহারা এক মহিলা বলেন, “ভিতরে এত অন্ধকার, কেউ বেরোতে পারছে না। ভেতর থেকে বলছে বেরোও, তবে বাইরে বৃষ্টির জন্য কেউ বেরোচ্ছে না। মাঝখানে সবাই ফেঁসে গেছে। আমার দিদি চলে গেছে। আমার দিদি নেই… ভিড়ের মধ্যে ওদের ম্যানেজমেন্ট ভালো নেই। কিছুই ভালো নেই। বৃষ্টি হচ্ছে বলে হুরহুর করে লোক বাড়ছে প্যান্ডেলের ভিতরে। ওরা যখন এক্সিট গেট সরু বানিয়েছে, তাহলে একটা মিনিমাম মানুষজনদের ছাড়ত। হুরহুর করে লোক ছেড়ে যাচ্ছে। আর তার মধ্যে সব ভিড়ের মধ্যে চেপে গিয়েছে।” আরও এক মহিলা বলেন, “জায়গাটা পুরো অন্ধকার ছিল। আমার মাসি মারা গেছে। আর এত প্রেসার, ওদিকে সিটি মারছে, সবাই সবার মতো বেরোচ্ছে। যে যে নিচে পড়েছে, ব্যাস। আমি তো অনেক কষ্টে বেরিয়েছি।” এমনকি পুলিশের গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।










