আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: উত্তর কলকাতার (Kolkata) চোরবাগান (Chorbagan) সর্বজনীন দুর্গাপুজোর (Durga Puja) মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো বাকরুদ্ধ বাংলা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে সরকার। ঘটনার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ পুজো কমিটির নিয়ন্ত্রণ বদল নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) অভিযোগ, এত বছরের পুরনো কমিটিকে সরিয়ে দিয়ে নতুন কমিটির হাতে পুজোর সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রাক্তন কমিটির সদস্যদের বক্তব্য ঘিরেও চর্চা শুরু হয়েছে।
কী বলছেন কুণাল ঘোষ?
কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে পুরনো কমিটির পদত্যাগপত্র প্রকাশ করে দাবি করেছেন, “চোরবাগান। প্রাক্তন পুজো উদ্যোক্তা জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের সরিয়ে দিয়ে নতুনরা কমিটির দখল নিয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরেই কমিটির অন্দরে চুরিচামারি চলছিল বলে অভিযোগ। মানসিক যন্ত্রণায় জয়ন্তবাবু এখন পুজো ছেড়ে পুরীতে চলে গিয়েছেন।” রাজনৈতিক পালাবদলের পর কমিটির সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল! তাঁর এই পোস্টের পর চোরবাগান পুজোর দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কমিটি পরিবর্তনের সঙ্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সরাসরি কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
প্রাক্তন পুজো উদ্যোক্তা জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বারংবার এই বিতর্কে উঠে এসেছে। অভিযোগ, পুরনো কমিটির সদস্যদের সরিয়ে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মানসিক কষ্টে জয়ন্তবাবু পুরীতে চলে গিয়েছেন এবং সেখান থেকে দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, বহু বছর ধরে তিনি এবং তাঁর সদস্যরা এই পুজোর সমস্ত দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। কখনও এরকম মর্মান্তিক ঘটনার সম্মুখীন তাঁদের হতে হয়নি। হঠাৎ মাঝপথে তাঁকে কোনও কারণ ছাড়াই এই কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর তারপরেই এমন অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা।
চোরবাগান। প্রাক্তন পুজোকর্তা জয়ন্ত ব্যানার্জি। তাঁকে এবং তাঁদের সরিয়ে নতুনরা কমিটি দখল করে। গত কিছুকাল ধরেই চলছিল তাদের অভ্যন্তরীণ চোরাস্রোত। মনের কষ্টে জয়ন্তবাবু পুজো ছেড়ে এখন পুরীতে। সেখান থেকেই তাঁর প্রতিক্রিয়া ভয়ঙ্কর ঘটনা সম্পর্কে। https://t.co/lL9irAMTFU
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) October 18, 2026
শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বহু দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। সরু রাস্তা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথের অবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ঘটনার তদন্তে পুজো কমিটি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন ৮ লাখ উপভোক্তা, বাদ পড়লেন এরা
চোরবাগান পুজো কমিটির নিয়ন্ত্রণ বদল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও, এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এত পুলিশ সমস্ত কিছু মজুদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ল, নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।










