প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে পালা বদল হতেই বাংলায় (West Bengal) শিল্প ব্যবস্থায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার। আর এবার বাংলায় বিনিয়োগ করার জন্য এগিয়ে এল জাপানের বিখ্যাত কোম্পানি মিৎসুবিশি (Mitsubishi)। জানা গিয়েছে রাজ্যের শিল্প এবং কর্মসংস্থানের খড়া কাটাতে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট গড়তে চাইছে তাঁরা। আর সেই কারণে বুধবার নবান্নে মিৎসুবিশির কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Roy) এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নবান্ন সূত্রে খবর, দুই মন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে কথা বলে সন্তুষ্ট জাপানি সংস্থার কর্তৃপক্ষরা।
নবান্নে শিল্প ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
সূত্রের খবর, গত বছর ভারতে একটি সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট গড়ার কথা ঘোষণা করেছিল জাপানের মিৎসুবিশি কোম্পানি। যদিও পড়ে এই নিয়ে আর আলোচনা হয়নি। কিন্তু মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) গড়ার পরই মিৎসুবিশি গোষ্ঠীর তরফে এ রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়। শুধু সেমিকন্ডাক্টর নয় ইলেকট্রিক ভেহিকল সেক্টরের উৎপাদন ইউনিট তৈরিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায় এই জাপানি সংস্থা। আর সেই কারণে গতকাল, বুধবার নবান্নে এসে রাজ্যের শিল্প ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন মিৎসুবিশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দুই শীর্ষ কর্তা তেরুয়ো ফুজিতা এবং তোমাফুমি কোয়ামা।

মিৎসুবিশি কর্তাদের আশ্বাস রাজ্যের
নবান্ন সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের আমলে রাজ্য সরকারের শিল্প নীতির পাশাপাশি, জমি নীতি, জমি অধিগ্রহণ নীতি, বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়, শ্রম আইন-সহ বেশ কিছু বিষয় মিৎসুবিশির কর্তারা রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী তাপস রায় এবং অর্থ মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর কাছে জানতে চেয়েছিল। যদিও বৈঠকে দুজনেই ওই বহুজাতিকের কর্তাদের আশ্বাস দিয়েছেন, যে তাঁদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না এবং তাঁরা এও জানিয়েছেন যে, সংস্থার তরফে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব এলেই ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ পদ্ধতির মাধ্যমে যাবতীয় সুযোগসুবিধা দেওয়া হবে।
কী বলছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়?
বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, “প্রথম বৈঠক কার্যকরী হয়েছে। আমি এবং অর্থমন্ত্রী দু’জনেই আশ্বাস দিয়েছি, সব রকম সাহায্য করা হবে। আমরা অতীত ভুলে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সেমিকন্ডাক্টর ও আধুনিক প্রযুক্তির উৎপাদন ইউনিটের জন্য সরকার কোথায় উপযুক্ত জমি দিতে পারে, তা নিয়ে দ্রুত একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। ঠিক দুই সপ্তাহ পর মিৎসুবিশির প্রতিনিধি দল আবার কলকাতায় আসবে। সেই সময় তাঁদের নির্দিষ্ট জমিগুলি দেখানো হবে”। উল্লেখ্য সেমিকন্ডাক্টর এবং ইভি ব্যাটারির উপাদান তৈরিতে মিৎসুবিশি বিশ্বসেরা। অন্যদিকে ভারতেও চিপ তৈরির কারখানা এবং ইভি বিপ্লব যেভাবে গতি পাচ্ছে, তাই এবার এখানে ব্যবসা শুরু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাপান।
আরও পড়ুন: চার বছর ধরে বন্ধ মিষ্টি হাব, তালা খুলতে বড় উদ্যোগ সরকারের
প্রসঙ্গত, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্যে শিল্পায়নের উপর জোর দিয়েছে। শুধু মিৎসুবিশি নয়, চলতি জুলাই মাসেই আরও একগুচ্ছ বড় লগ্নির ঘোষণা হতে চলেছে বাংলায় জানা গিয়েছে, আগামী ১১ জুলাই হুগলির ডানকুনিতে ৬০০ কোটি টাকা লগ্নির মাধ্যমে হোসিয়ারি শিল্পের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান ‘লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ’ তাদের কারখানার সম্প্রসারণ করবে। অন্যদিকে আগামী ২৭ জুলাই, ‘শ্যাম স্টিল’ বাঁকুড়ার মেজিয়ায় তাদের কারখানার সম্প্রসারণ করতে চলেছে। পাশাপাশি আগামী ১৮ই জুলাই হাওড়ার সাঁকরাইলে আমুলের দই উৎপাদন ইউনিটের শিলান্যাস করা হবে। এর জন্য কলকাতায় আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।










