অনন্যা সরকার, কলকাতা: মানুষ চাইলে কি না পারে। কোনো সীমাবদ্ধতাই তাকে আটকে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। হরিয়ানার বাসিন্দা দিব্যা তানওয়ার এরই এক জীবন্ত উদাহরণ (UPSC Success Story of IAS Divya Tanwar)। দিব্যার এই যাত্রা শুধু ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় সফল হওয়ার নয়, এটা এক মায়ের অটল বিশ্বাস এবং তাঁর মেয়ের অদম্য জেদেরও গল্প। আজ আইএএস (IAS) দিব্যা তানওয়ার সারা দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। আসুন তাঁর কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
শৈশবের দারিদ্র্যের সাথে লড়ে আজ আইএএস অফিসার
হরিয়ানার ছোট্ট গ্রাম নিমবির বাসিন্দা দিব্যার শৈশব ছিল খুবই কঠিন। ২০১১ সালে তাঁর বাবার অকাল প্রয়াণে দুর্যোগ নেমে আসে পরিবারটির ওপর। তখন দিব্যার বয়স মাত্র ৯ – ১০ বছর। তাঁর তিন ভাইবোনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁর মা ববিতা তানওয়ার। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অনেকেই সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু ববিতা সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করতেন। লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য দিব্যার মা দিনের বেলা মাঠে কৃষিকাজ করতেন আর রাতে সেলাই করে উপার্জন করতেন।
দিব্যা ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তিনি গ্রামের সরকারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে। তারপর তিনি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিএসসি (BSc) পাস করেন। স্কুলজীবনে দিব্যা তার স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে এক এসডিএম (SDM) অফিসারকে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখেছিলেন, তখন তাঁর মনেও দেশের সেবা করা ও এরকম সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ইচ্ছা জাগে। সেদিন থেকেই মনে মনে সংকল্প করেন যে তিনি ভবিষ্যতে একজন আইএএস অফিসার হবেন।
সাধারণত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ব্যয়বহুল কোচিং, ফাস্ট ইন্টারনেট এবং আধুনিক গ্যাজেট থাকা অপরিহার্য বলে মনে করেন অনেকেই। কিন্তু সেখানে দিব্যা বেছে নিয়েছিলেন ভিন্ন পথ। বাড়িতে জায়গা ও সুযোগ-সুবিধা কম থাকায়, দিব্যা একটি ছোট ঘরে বসে দিনে ১০ ঘণ্টা ইউপএসসি-এর জন্য প্রস্তুতি নিতেন। তিনি কোনো কোচিং ছাড়া, একাই পড়াশোনা করে এবং অনলাইন উপলব্ধ ফ্রি স্টাডি মেটেরিয়ালের উপর নির্ভর করে পরীক্ষায় বসেন।
আরও পড়ুনঃ ফ্রিজে পচছে সবজি, নষ্ট হচ্ছে খাবার? একটা কাগজই বলে দিতে পারে সমস্যা কী
দিব্যার তানওয়ারের এই কঠোর পরিশ্রমের ফল মেলে ২০২১ সালে। মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথম চেষ্টাতেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এবছর তাঁর সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ছিল ৪৩৮। তিনি মণিপুর ক্যাডারে নিযুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। কিন্তু তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল একজন আইএএস অফিসার হওয়া। তারজন্য দরকার ছিল আরও ভালো র্যাঙ্ক। তাই কর্তব্য ও দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি পরীক্ষার জন্য দিনরাত খেটে যাচ্ছিলেন। পরের বছর তার প্রচেষ্টা সফল হয়। তিনি ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করে তিনি সারা ভারতের মধ্যে ১০৫তম র্যাঙ্কটি অর্জন করে নেন এবং মাত্র ২২ বছর বয়সে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। দিব্যার এই অভূতপূর্ব সাফল্য প্রমাণ করে যে, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায় থাকলে সাফল্য আসতে বাধ্য।










