সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে বিপত্তারিণী পূজা কত তারিখে পড়ছে (Bipadtarini Puja 2026)? কী রয়েছে দিনক্ষণ আর ব্রত পালনের নিয়মই বা কী কী রয়েছে? আসলে দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের মধ্যে অন্যতম একটি রূপ হল মা বিপত্তারিণী। হিন্দু ধর্মে বিপত্তারিণী ব্রতের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হিন্দুরা ভক্তিভরে এই দেবীর আরাধনা করে থাকেন। এমনকি পূজাতে সবকিছু ১৩টি করেই উৎসর্গ করতে হয় দেবীকে। কিন্তু এ বছর এই পূজার সময়সূচি তিথি-নক্ষত্র সহ বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
বিপত্তারিণী পূজার মাহাত্ম্য
প্রথমেই যেমনটা বললাম, দেবী বিপত্তারিণী হলেন মা দুর্গার ১০৮টি অবতারের মধ্যে একটি, যার আরাধনা করলে পরিবারের যে কোনও বিপদ বা সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে আষাঢ় মাসের রথযাত্রা আর উল্টো রথের মধ্যবর্তী শনি এবং মঙ্গলবার এই ব্রত পালন করা হয়ে থাকে। আর এই পূজায় ১৩টি গিট দেওয়া লাল সুতো হাতে বাঁধতে হয়। এমনকি ১৩ সংখ্যার নৈবেদ্য দেওয়ার মাহাত্ম্য প্রচলিত রয়েছে হিন্দু ধর্মের মধ্যে।
বিপত্তারিণী পূজা ২০২৬ কত তারিখে? | Bipadtarini Puja 2026 Date |
আসলে প্রতি বছর দু’দিন পরে বিপত্তারিণী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী আমরা জানতে পারছি, এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে বিপত্তারিণী ব্রত পালন করা হবে আগামী ১৮ জুলাই শনিবার এবং ২১ জুলাই মঙ্গলবার। তবে বাংলা তারিখ অনুযায়ী, এই দু’দিন পড়ছে আগামী ১ শ্রাবণ এবং ৪ শ্রাবণ। এই দু’দিন নিষ্ঠা এবং ভক্তি ভরে বিপত্তারিণী ব্রত পালন করা হবে। বিশেষ করে রথযাত্রা থেকে উল্টো রথের মাঝের এই সময় অর্থাৎ শনিবার এবং মঙ্গলবার ব্রত পালনের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বিপত্তারিণী পূজায় কী কী দরকার?
বিপত্তারিণী পূজা করতে গেলে অবশ্যই কিছু সামগ্রী সঙ্গে রাখতে হয়। তবে সবকটি ১৩টি করে দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় এতে মা বিপত্তারিণী খুশি হয় এবং আশীর্বাদ বর্ষণ করে। প্রথমত, ঘট, আমের পল্লভ, শিষসহ ডাব এবং নৈবেদ্যের বাটা তো লাগেই। যদিও এগুলি ১৩টি করে দেওয়া লাগে না। পাশাপাশি ১৩টি গিট দেওয়া লাল সুতো বাঁধা হয়, এবং তাতে ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা লাগে। এছাড়া ১৩ রকমের ফল, ফুল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি আলাদা আলাদা দূর্বাঘাস, ১৩টি পান এবং ১৩টি সুপরি দরকার পড়ে। তবে নিয়ম অনুযায়ী, বিপত্তারিণী পূজার ১৩টি গিট বাঁধা লাল সুতো ১৩ দিন হাতে বেঁধে রাখা বাধ্যতামূলক।
বিপত্তারিণী পূজা করার নিয়ম
বিপত্তারিণী পূজা করতে গেলে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। সেগুলি হল—
- ব্রত পালনের আগের দিন নিরামিষ বা সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
- উপবাস করে নিষ্ঠা হয়ে সমস্ত উপকরণ দিয়ে মা বিপত্তারিণীর পূজা করতে হয়।
- তবে পূজা শেষে ১৩টি লুচি এবং ১৩ রকমের ফল দিতে হয় প্রসাদ হিসেবে।
- পূজা হয়ে গেলে ঠাকুরের পায়ে অর্পণ করা ১৩টি গিট বাঁধা লাল সুতো হাতে বাঁধতে হয়। তবে তা মেয়েদের বাম হাতে এবং ছেলেদের ডান হাতে বাঁধা বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুন: ২০২৬-এ রথযাত্রা কত তারিখে? জানুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও মাহাত্ম্য
বিপত্তারিণী পূজার আচারবিধি
বিপত্তারিণী পূজা করতে গেলে অবশ্যই কিছু আচারবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যেমন—
- পূজার আগের দিন নিরামিষ খাবার খেতে হয় এবং ঐদিন খুব সকাল সকাল স্নান সেরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে হয়।
- কোনও অপরিচ্ছন্ন স্থানে বিপত্তারিণী পূজা করা চলবে না। এতে পরিবারে সুখ শান্তি নষ্ট হয় বলেই মনে করা হয়।
- পূজা চলাকালীন কারো সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। এতে দেবী রুষ্ট হতে পারেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
- পূজার দিন ভুলেও কাউকে চিনি দান করবেন না। কারণ, এতে শুক্র এবং চন্দ্র ক্ষুব্ধ হন, এবং আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
- কোনও সদস্যকে এদিন টাকা ধার দেওয়া উচিত নয়।
- ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করা সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করা হয়।
- পাশাপাশি পরিবারের কোনও সদস্যের মদ্যপান এদিন এড়িয়ে চলা উচিত।










