বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: 2027-28 মেয়াদে জাতিসংঘের (United Nations) নিরাপত্তা পরিষদে একটি অস্থায়ী আসন পেতে একেবারে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত (India)। এই লক্ষ্যে বিগত দিনগুলিতে একের পর এক দেশে সফর করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ আসন নিশ্চিত করতে আবারও জোর কদমে প্রচার চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী। তবে এই আসন নিশ্চিত করতে হলে ভারতকে তাজিকিস্তানের কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। কারণ এই দেশটিও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসন পাওয়ার দাবিদার।
তাজিকিস্তান বাধা কাটিয়ে উঠতে হবে ভারতকে
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী আসন পাওয়ার দৌড়ে ভারতের সাথে সাথে যেহেতু এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাজিকিস্তান রয়েছে ফলে ভারতকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রচার চালানোর পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে। আসলে এই মুহূর্তে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আসন পাকা করার জন্য ফিজি, আমেরিকা, অস্ট্রিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর সমর্থন পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতে চিরে ভিজবে না।
বলে রাখি, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ আসন পেতে ইতিমধ্যেই ইসলামীও দেশগুলির সংগঠন বা OIC এর সমর্থন পেয়েছে তাজিকিস্তান। আর এই সংগঠনের সমর্থন পাওয়ার মানে হল তাজিকিস্তান ইতোমধ্যেই 57টি দেশের হাত নিজের মাথায় রেখেছে। এই প্রত্যেকটি দেশ সমর্থন করছে ইসলামীও দেশটিকে। ফলে ভারতকে এখন যতটা সম্ভব অন্যান্য পরিচিত দেশগুলির সমর্থন অর্জন করতে হবে।
দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী 10 জুলাই নিউ ইয়র্কে পৌঁছে বিভিন্ন বন্ধু দেশগুলির প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী। গ্লোবাল সাউথকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য বিদেশ মন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। 2027-28 মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসন পাকা করতে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রী এ সপ্তাহে বাহরাইন, কুয়েত এমনকি ওমান সফর করেছেন। এর আগে কাতারেও গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। মূলত ভারতের বন্ধু দেশগুলির কাছ থেকে সমর্থন আদায়ের জন্যই বিভিন্ন দেশে সফর করার পর এবার বিস্তারিতভাবে আলোচনার জন্য নিউ ইয়র্কে যাচ্ছেন তিনি।
অবশ্যই পড়ুন: করাচী যাওয়ার পথে উধাও পাকিস্তানের বিমান! হাইজ্যাক নাকি অন্যকিছু?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে জায়গা নিশ্চিত করতে সমর্থনের দিক থেকে তাজিকিস্তানকে পেছনে ফেলতে হবে। এটা করতে পারলে তবেই আগের মতো নিজের জায়গা বুঝে নিতে পারবে নয়া দিল্লি। এখন দেখার পরিশ্রম করে ভারতকে সেই জায়গা পাইয়ে দিতে পারেন কিনা বিদেশ মন্ত্রী! বলে রাখা প্রয়োজন, 1950 সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মোট আটবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত।










