মুসলিম সংরক্ষণ ইস্যুতে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য সরকার

Published:

Muslim Reservation

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ধর্মান্তরিত মুসলিমদের সংরক্ষণ (Muslim Reservation) সংক্রান্ত বিতর্কে তুঙ্গে রাজ্যের রাজনীতি। মাদ্রাজ হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হল তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্য সরকার হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছে। আর এই মামলাকে ঘিরেই সংরক্ষণ নীতি, ধর্মান্তর এবং সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।

কী নিয়ে এই বিতর্ক?

২০২৪ সালে তামিলনাড়ু সরকার একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করে। সেই অনুযায়ী অনগ্রসর শ্রেণী, অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণী, তপশিলি সম্প্রদায় বা তপশিলি জাতিভুক্ত যে কোনও ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তাঁকে ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস মুসলিম শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই নীতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিউনিটি সার্টিফিকেটও দেওয়া শুরু হয়েছিল। এ নিয়েই বিতর্ক।

আসলে পরবর্তী সময়ে এই সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয়। মামলার শুনানির পর মাদ্রাজ হাইকোর্ট ওই সরকারের নির্দেশিকাকে অসাংবিধানিক বলেই ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, শুধুমাত্র ধর্ম পরিবর্তনের ভিত্তিতে সংরক্ষণের শ্রেণীবিভাগ পরিবর্তন করা আগের রায়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালত আরও জানিয়েছিল, এই ধরনের সরকারি সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের আগের বিভিন্ন রায়ের সঙ্গে যায় না।

আরও পড়ুন: বিগ বস বাংলায় থাকবেন টলিউডের এই বহু চর্চিত ‘দম্পতি’! আর প্রতিযোগী কারা?

তবে মাদ্রাজ হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। সরকারের দাবি, বিষয়টি সাংবিধানিক এবং সামাজিক ন্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণে হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন। এমনকি সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মুসলিম সম্প্রদায়ের একাধিক গোষ্ঠী সংরক্ষণের সুবিধায় এসেছিল। যার মধ্যে পড়ে আনসার লাব্বাই, সৈয়দ সহ আরও বেশ কয়েকটি সম্প্রদায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার শুনানি গ্রহণ করলে ধর্মান্তর, সংরক্ষণ নীতি বা সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উপর আইনি ব্যাখ্যা সামনে আসতে পারে বলেই মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।