ইন্দোনেশিয়ার ১০০০ বছরের প্রাচীন প্রামবানান মন্দিরে পুজো দিলেন মোদী, বললেন…

Published:

Narendra Modi

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইন্দোনেশিয়া সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে সফরকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক প্রামবানান হিন্দু মন্দির পরিদর্শন করেন। এমনকি দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে তিনি প্রায় ১০০০ বছর পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে পুজো অর্চনায় অংশগ্রহণ করেন। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে মোদীর সফর ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করা হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী

প্রামবানান মন্দিরে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার থেকে মন্দির চত্বরের মনোরম দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই শেয়ার করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি মন্দিরটিকে রাজকীয় প্রামবানান বলেই উল্লেখ করেন। এমনকি মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত অতিথি এবং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্দোনেশিয়ার মানুষ বহু শতাব্দী ধরে এই ঐতিহাসিক মন্দিরের ঐতিহ্যকে যত্নের সঙ্গে রক্ষা করে আসছেন। ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য এই সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করার জন্য তিনি ইন্দোনেশিয়ার জনগণকে আহ্বানও জানিয়েছেন।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেন যে, কৈলাসের মানস সরোবর থেকে প্রামবানান মন্দির পর্যন্ত মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে ভারত আর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে তা আরও ফুটে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ৫০,০০০ সাফাই কর্মী পাবে বিশেষ কিট, লাগানো হবে ৭ কোটি গাছ! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের একদিন আগেই দুই দেশের মধ্যে মন্দির সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে যৌথভাবে আলোচনা হয়। দীপাক্ষিক বৈঠকে ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশ অ্যাক্ট ইস্ট নীতির আওতায় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা পালনের পাশাপাশি ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। এদিকে জানিয়ে দিই, ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে অবস্থিত এই প্রামবানান মন্দিরটি দেশটির বৃহত্তম হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়ার অঙ্কোর ওয়াটের পর এরই শুধুমাত্র গুরুত্ব রয়েছে। প্রায় ৪০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মন্দিরটি, এবং এই কমপ্লেক্সের মূল আকর্ষণ হল তিনটি বিশাল মন্দির, যা ভগবান শিব, বিষ্ণু এবং ব্রহ্মার উদ্দেশ্যে নির্মিত।