সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোটে হেরে কি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)? তা নাহলে নিজের দলের কর্মীকে কেন সপাটে চড় মারবেন তিনি? আসলে এমনই ঘটনা ঘটেছে আজ। বুধের দুপুরে হাজরায় কালীঘাটের মিছিলে তৈরি হয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। সেই আবহে নিজেই পথে নামেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই একেবারে মেজাজ হারিয়ে নিজের দলীয় কর্মীর গালে ঠাটিয়ে বসিয়ে দেন এক চড়।
কালীঘাট তৃণমূলের কর্মীর গালে চড় মমতার
বারুইপুরের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত গোটা রাজ্যের রাজনীতি। এমনিতেই বারুইপুরে যেতে দেওয়া হয়নি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। তা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন আগেই। আজ দুপুরে হাজরার মোড়ে কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ মেনেই বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হয় এই মিছিল। কিন্তু সেই মিছিলকে ঘিরেই তৈরি হয় উত্তেজনা এবং বিশৃঙ্খলা। এমনকি চোর চোর স্লোগান ওঠে। পাশাপাশি ‘মাছ চোর’ গান শোনা যায় রাস্তার অন্য ধার থেকে।
তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপির নেতা কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই মিছিল ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকি ঘাসফুল কর্মীদেরকেও ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেই আবহে কালীঘাটের বাড়ি থেকে নিজেই বের হন তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি সেই সময় তাঁর বাড়ির সামনেও প্রচুর ভিড় জমে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিলেন তিনি নিজেই। কিন্তু বিশৃঙ্খলা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন, এবং সামনে থাকা এক দলীয় কর্মীর গালেই ঠাটিয়ে চড় বসিয়ে দেন।
আরও পড়ুন: রিজেক্ট হলেও ঢুকবে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা! ভেরিফিকেশনে দিন এই তথ্যগুলি
তবে এই ঘটনা ঘটতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যের রাজনীতিতে। বিরোধীরা শুরু করে কটাক্ষ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, ‘ভোটে হেরে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। এই সময় এরকম আচরণ দুর্ভাগ্যজনক হলেও তিনি এখন ঠিকই করছেন। তাঁর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে।’ পাশাপাশি অন্যান্যরাও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মমতাকে।










