প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে বাকি আর মাত্র ৭দিন, এরপরেই রাজ্য জুড়ে দুই দফায় হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) । জোর কদমে ভোট প্রচারের প্রস্তুতি চলছে জেলায় জেলায়। জনসভা, মিছিল এবং বক্তৃতায় রীতিমত রাজ্যে সাজ সাজ রব। এমতাবস্থায় ফের বঙ্গে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে (Vote Counting Centers In Bengal) আনল কমিশন! প্রথমে ১৬৫ কেন্দ্রে গণনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পিছু হটে এবার ৮৭ কেন্দ্রে নামল কমিশন (Election Commission Of India)। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
রাজ্যের ভোট গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা কমল
রিপোর্ট মোতাবেক, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রস্তাব পাঠিয়ে বলেছিল যে প্রথমে ১৬৫ কেন্দ্রে গণনা হবে। পরে তা কমিয়ে আনা হয় ১৫০-এ। এরপর নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা জারির পর আরও এক দফা পর্যালোচনায় সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১১২। শেষ পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে ৮৭-তে। স্বাভাবিকভাবেই এত কম সংখ্যক গণনা কেন্দ্র থাকার কারণে ভোটের ফলাফল বেরতে দেরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিশনের একাংশ। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।
চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি কমিশনের তরফে
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকগুলি বিবেচনা করেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই ৮৭টি কেন্দ্র থেকেই রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ফল ঘোষণা করা হবে। যদিও এখনও নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। গত সোমবারই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধুমাত্র কমিশনের শিলমোহরের।
দক্ষিণ কলকাতার DEO-কে নোটিস
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দক্ষিণ কলকাতার DEO-র সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বোরোলিন ও বার্নল সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে শুরু হয়েছিল মহা বিতর্ক। সোমবার ভোটারদের বোরোলিন ও বার্নল রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এরপরই এই পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেলডাঙার আইসিকে। কয়েকদিন আগেই বেলডাঙার SDPO পদে বদল করেছিল কমিশন। এবার আইসিকেও সরিয়ে দেওয়া হল।
আরও পড়ুন: আন্দামান সাগরে ডুবল জাহাজ! নিখোঁজ ২৫০ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি
উল্লেখ্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল এই গণনা পর্ব। কারণ এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় সরকার গঠনের। ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও নজরদারিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত। এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য নির্বাচন কমিশন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। তাই সব মিলিয়ে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভোটের ফল ঘোষণার প্রস্তুতিও বেশ জোরকদমে এগোচ্ছে, তা বেশ স্পষ্ট।










