একাধিক অ্যাকাউন্টে ঢুকত লক্ষ্মীর ভান্ডার, অর্ধেক কাটমানি নিত মুস্তাফিজুর

Published:

Lakshmir Bhandar Scam Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাড়ির মহিলাদের জন্য তৃণমূল সরকার চালু করেছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। কিন্তু, সেই প্রকল্পের উপভোক্তার তালিকাতে দেখা যাচ্ছে ছেলেদের নাম। অর্থাৎ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন পুরুষও। এমতাবস্থায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতারণার (Lakshmir Bhandar Scam Case) অভিযোগে মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আর কোনও পুরুষ, ‘মহিলা সেজে’ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা তুলছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

সম্প্রতি, নবান্নে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ফর্ম নিয়ে ঘোষণা করতে গিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি অভিযোগ করেছিলেন পুরুষ হয়েও বহরমপুরের রাধারঘাটের শিয়ালমারার বাসিন্দা রাকিবুল শেখ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিয়ে আসছে। তারপরই অ্যাকশনে নামে পুলিশ, গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এদিকে সেই রাকিবুলকে জেরা করতেই এবার তদন্তকারীদের হাতে এল আরও বেশ কয়েকটি নাম, যার মধ্যে অন্যতম হলেন মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিই নাকি রাকিবুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছিলেন।

পুলিশের জালে মূল পান্ডা

ধৃত রাকিবুলের দাবি মুস্তাফিজুর রহমানকে প্রতি মাসে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকার অর্ধেকটা দিতে হত। বিস্ফোরক এই তথ্য পাওয়ার পরেই মুস্তাফিজুর রহমানকে খোঁজার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল, অবশেষে সেই অভিযান সফল হল। জানা গিয়েছে মুস্তাফিজুর-সহ রঘুনাথগঞ্জের তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিযোগ রাকিবুল সেখের তিনটি অ্যাকাউন্টে এই বেআইনি অর্থ ঢুকত লক্ষ্মীর ভান্ডারের এবং সেই অর্থ অর্ধেক ভাগ দেওয়া হত মুস্তাফিজুর। শুক্রবার বহরমপুর আদালতে পেশ করা হয়েছিল তাঁদের। অন্যদিকে এই ঘটনায় পৃথক তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: কিছুক্ষণেই মুহুর্মুহু বাজ, আকাশভাঙা বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায়! আবহাওয়ার খবর

প্রসঙ্গত, রাজ্যে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প শুরুর আগে তালিকা ঝাড়াই বাছাই শুরু করেছে বিজেপি সরকার। আর তাতেই সামনে আসছে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা। অন্যদিকে হুগলির রিষড়ায় ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। রিষড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থসারথী গুপ্তের ঘনিষ্ঠ লোক বিজয় সাউয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকত, আর সেই নিয়ে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা জেনে যেতেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অভিযোগ দায়ের হয় কাউন্সিলর পার্থসারথী গুপ্তের বিরুদ্ধে।