বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। বুধবার, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দিলেন এতদিন শিক্ষা মন্ত্রীর পদে থাকা ধর্মেন্দ্র। জানালেন, “দেশের ছাত্র ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। সমাজ বিরোধীরা যাতে তাঁদের আন্দোলনকে কলুষিত করতে না পারে সেজন্য আমি নিজেই এই পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।”
প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ পত্র পাঠালেন ধর্মেন্দ্র প্রধান
বিগত কুড়ি দিনেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির বুকে নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনশন বিক্ষোভ করছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভে শামিল হয় দেশের নানান প্রান্তের ছাত্র-ছাত্রীরা। সময় যত গড়ায় আন্দোলন ততো তীব্রতর হতে শুরু করে। দিল্লি থেকে শুরু করে বিহার, উত্তর প্রদেশ, বাংলা সহ দেশের নানান প্রান্তে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে পথে নামে ছাত্র-ছাত্রীরা। আর তাতেই পিছু হটলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী!
এর আগে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার CJP সদস্যদের সাথে বৈঠক করে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি দাবি মেনে নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। অপেক্ষা ছিল শুধুমাত্র ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি পূরণের। সেজন্য অবশ্য আজ দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। আর ঠিক সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নিজের ইস্তফা পত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এদিন প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ পত্র পাঠানোর পাশাপাশি দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে একটি বড় চিঠি লেখেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই চিঠিতে দেশের যুবদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, ছাত্রছাত্রীরা যে আন্দোলন করছেন তা একেবারে ন্যায্য এবং যুক্তি সঙ্গত। তবে বিগত দিনগুলিতে তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হতেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পরই গোটা পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: ‘ওকে সামলে রাখুন’ রোহিত শর্মাকে নিয়ে BCCI-কে বিরাট পরামর্শ এবি ডিভিলিয়ার্সের
এদিন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী এও বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ছাত্র-ছাত্রীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, কিছু সমাজবিরোধী মানুষজন ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে। এতে রাজনীতির রঙ লাগানোর চেষ্টা করছে। পড়ুয়াদের দাবি ন্যায্য। তাই দেরি না করে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন। এখন অপেক্ষা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রধানমন্ত্রী তরফে গ্রহণ করার।










