অনন্যা সরকার, মধ্যপ্রদেশ: কথায় বলে, পরাজয় কখনওই কোনো লক্ষ্যের সমাপ্তি হতে পারে না, বরং এটি নতুন করে চেষ্টা করার আরও একটা সুযোগ করে দেয়। দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা, ইউপিএসসি-র ক্ষেত্রেও এই কথাটি সত্যি। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন, কিন্তু সফল হন হাতে গোনা কয়েকজনই। তাদের মধ্যেও সেইসব পরীক্ষার্থীদের গল্প বিশেষ হয়ে ওঠে, যাঁরা বারংবার ব্যর্থতার পরও হার মানেননি, পরিবর্তে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন ও আত্মবিশ্বাসের জোরে এই কঠিন পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা তপস্যা পরিহারের কাহিনীটিও অনেকটা এরকমই (UPSC Success Story of Tapasya Parihar)। আর্থিক সংকট এবং সামাজিক বাধা সত্ত্বেও, তিনি কঠিন ইউপিএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। একজন কৃষকের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও, তিনি কোনও কোচিং ছাড়াই নিজের চেষ্টায় সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক (AIR) ২৩ অর্জন করেছেন। আসুন তাহলে তাঁর ইউপিএসসি যাত্রার কাহিনীটি বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
বিনা কোচিংয়ে আইএএস অফিসার হলেন কৃষকের মেয়ে
মধ্যপ্রদেশের নরসিংহপুরের বাসিন্দা তপস্যার বড় হয়ে ওঠা এক কৃষক পরিবারে। ছোট থেকেই সংসারের অভাব অনটন দেখে বড় হয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে তপস্যা তাঁর স্কুলশিক্ষা শেষ করেন এবং তারপর পুনের ইন্ডিয়ান ল সোসাইটি ল কলেজে আইন নিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। প্রথম চেষ্টাতে ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও, হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না তপস্যা। মক টেস্ট এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ওপর মনোযোগ দিয়ে নিজে নিজেই প্রস্তুতি শুরু করেন এবং অধ্যাবসায় ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। এর ফলস্বরূপ, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি বিপুল সাফল্য লাভ করেন এবং সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ২৩ অর্জন করে একজন আইএএস অফিসার হয়ে তাঁর ও গোটা পরিবারের স্বপ্নপূরণ করেন।
তপস্যার সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিনি সামাজিক রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। নিজের বিয়েতে ‘কন্যাদান’ প্রথা প্রত্যাখ্যান করে তিনি এই বার্তা দিয়েছিলেন যে, নারীরা কোনও ‘দান’ করার কোনো বস্তু নয়। তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্তটি নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ ছিল।
আরও পড়ুন: ১৬ লাখের চাকরি ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি দুই বোনের, একসাথে IAS অঙ্কিতা ও বৈশালী
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আইএএস তপস্যার পরিহারের সততা এবং নিষ্ঠা বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। ছাতারপুরে জেলা পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় বরখাস্ত হওয়া এক শিক্ষক তাঁকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেন। তপস্যা শুধু সেই ঘুষ প্রত্যাখ্যানই করেননি বরং তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই কাজের পর তাঁকে অনেকেই ‘লেডি সিংহাম’ বলে ডাকতে শুরু করেন এবং এই ঘটনা তাঁর সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। আজ তপস্যা পরিহার ছোট শহর থেকে আসা লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তিনি শিখিয়েছেন যে, ব্যর্থতাই শেষ নয়, নিষ্ঠা ও সত্যের পথে চললে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।










