অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: কোনও কিছু অর্জনের জন্য যদি থাকে দৃঢ় অঙ্গীকার এবং তার জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে সাফল্য অর্জনের পথে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। দিল্লির দুই বোন অঙ্কিতা জৈন ও বৈশালী জৈনের সাফল্যের গল্পটিও (UPSC Success Story of IAS Ankita Jain and Vaishali Jain) এই একই কথা বলে। তাঁরা একসঙ্গে একই বছর পরীক্ষায় পাস করে আইএএস অফিসার হয়েছেন। দুই আইএএস অফিসারের যাত্রা শুধু ইউপিএসসি-তে র্যাঙ্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তাঁদের এই সফর অদম্য সাহস, লড়াই এবং স্বপ্নের নিরলস সাধনা কথা শোনায়। আসুন তাহলে আইএএস অফিসার দুই বোনের সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
সাধারণ পরিবার থেকে এসে অসাধারণ স্বপ্নপূরণ
দুই বোন অঙ্কিতা ও বৈশালী জৈন দিল্লির বাসিন্দা। সেখানেই তাঁরা বেড়ে উঠেছেন এবং শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেছেন। তবে তাঁদের মূল শিকড় প্রোথিত রয়েছে রাজস্থানে। তাঁদের বাবা গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তবে, সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে উঠলেও দুই বোনের স্বপ্ন একেবারেই সাধারণ ছিল না। দেশের মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা নিয়ে তাঁরা সিভিল সার্ভিসে যোগদান করার স্বপ্ন দেখেন। আর কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় দিয়ে তাঁরা তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণ করেও দেখান।
অঙ্কিতা ও বৈশালী দু’জনেই স্কুল জীবন থেকে মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। স্কুলের পরীক্ষায় অঙ্কিতা সবসময়ই ৯০%-এর কাছাকাছি নম্বর পেতেন, যা সেই সময়ে একটি বড় কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচিত হত। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে, দুই বোন দিল্লির টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (DTU) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। বৈশালী ডিটিইউ থেকে বি.টেক সম্পন্ন করার পর, আইআই দিল্লি থেকে গোল্ড মেডেল সহ এম.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: ডাক্তার থেকে IAS, সব ছেড়ে গড়েন নিজের কোম্পানি! সেটিও বেচে দিলেন ১,৮৯০ কোটিতে
১৬ লাখের চাকরি ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি
ডিটিইউ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বি.টেক শেষ করার পর অঙ্কিতা একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে বছরে ১৬ লক্ষ বেতনের চাকরি পান। কিন্তু তাঁর মন ছিল অন্য কোথাও। ২০১৪ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে গেট (GATE) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। বৈশালী সেই সময়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশিই ইউপিএসসি-র জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। চাকরি ছাড়ার পর অঙ্কিতাও ইউপিএসসি-র জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন।
২০১৭ সালে অঙ্কিতা ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন, কিন্তু প্রিলিমসে উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। কিছুদিন পর তিনি ডিআরডিও (DRDO)-তে বিজ্ঞানী হিসেবে চাকরি নেন এবং একই সাথে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিও চালিয়ে যেতে থাকেন। দিল্লির অঙ্কিতা ও আগ্রার অভিনব কলেজ জীবন থেকেই একে অপরকে চিনতেন। ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর, দুজনেই ইউপিএসসি-র জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। অভিনব ত্যাগী ২০১৯ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন আইপিএস (IPS) অফিসার হন। অভিনব তাঁর নোট অঙ্কিতার সাথে শেয়ার করেন এবং বৈশালী তাঁর বড় বোনের সাথে সেই একই নোট ব্যবহার করে ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি আরও জোরদার করেন।
আরও পড়ুন: IIT থেকে UPSC, কোচিং ছাড়াই প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফল হয়ে আজ IAS শ্রেয়া
অবশেষে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় অঙ্কিতা ২৭০তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন। তবে, তাঁর আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাকাউন্টস সার্ভিসে যোগ দেন, কিন্তু প্রস্তুতি এখানে থেমে থাকেনি। তৃতীয় প্রচেষ্টাতেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন তিনি। চতুর্থ প্রচেষ্টায় অবশেষে অঙ্কিতা জৈন সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ৩ (AIR 3) অর্জন করেন। আর বৈশালী ২১তম স্থান লাভ করেন। অঙ্কিতা ও অভিনব ২০২১ সালের জুলাই মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, আর এর ঠিক দুই মাস পর, সেপ্টেম্বর মাসে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস ২০২০-এর ফলাফল ঘোষণা হয়, যেখানে অসাধারণ ফল করে আইএএস অফিসার হন দুই বোন, অঙ্কিতা ও বৈশালী জৈন।










