স্ত্রীকে “আপত্তিকর অবস্থায়” দেখা মানেই পরকীয়া নয়, বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

Published:

Adultery in Divorce Case

অনন্যা সরকার, বিহার: বিবাহবিচ্ছেদের (Divorce Case) কারণ হিসেবে ব্যভিচার (Adultery) প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্বামী বা স্ত্রীকে অন্য কোনোও ব্যক্তির সাথে “আপত্তিকর অবস্থায়” পাওয়ার অভিযোগই যথেষ্ট নয় – পাটনা হাইকোর্টের (Patna High Court) সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে এই কথাটিই উঠে এসেছে। ‘আপত্তিকর’ আচরণ প্রত্যক্ষ করার অভিযোগ প্রকৃত শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সমতুল্য নয়। শুধুমাত্র এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করা যায় না বলেই জানালো আদালত। 

‘আপত্তিকর অবস্থা’ এবং ‘শারীরিক সম্পর্ক’ – এই দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ

বিচারপতি বিবেক চৌধুরী এবং বিচারপতি রানা বিক্রম সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ ব্যভিচার এবং নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিবাহবিচ্ছেদ দেওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের অস্বীকৃতির বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করার সময় এই পর্যবেক্ষণটি করেছেন। আদালত উল্লেখ করেছে যে, ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইনের ধারা ১৩(১)(i) অনুসারে, বিয়ের পরে কোনও স্বামী বা স্ত্রী তার নিজের বিবাহিত সঙ্গীকে ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে, সেই ব্যভিচারকে বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তবে, এই নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে স্বামীর অভিযোগ ছিল যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে শ্যালিকার স্বামীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন, যা আদালতের মতে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির সমতুল্য নয়। ‘আপত্তিকর অবস্থা’ এবং ‘শারীরিক সম্পর্ক’ – এই দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে বলে জানায় পাটনা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আশ্চর্যের বিষয় হল, ওই ঘটনার পর আপিলকারী তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। দম্পতিটি ২০০৬ সালের জুলাই মাসে বিয়ে করেন এবং ২০১০ সালে তাদের একটি পুত্রসন্তান হয়।

আরও পড়ুন: ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হবে UPI? বড় খবর

স্বামীর দাবি অনুযায়ী, তার স্ত্রী তার ওপর নির্যাতন করেছেন এবং তাঁর বড় বোনের স্বামীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, ২০১৩ সালের মার্চ মাসে তিনি দুজনকে একসঙ্গে দেখে আপত্তি জানালে স্ত্রীর বাবা ও অন্য সদস্যরা তাঁকে বাপেরবাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন।

তবে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে, তার দিদির স্বামীর সাথে সম্পর্কিত অভিযোগগুলো সর্বৈব মিথ্যা এবং এই ধরনের অভিযোগ করা তার স্বামীর পক্ষ থেকে নির্যাতনের শামিল। ব্যভিচার প্রমাণের প্রশ্নে, আদালত মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ‘হরগোবিন্দ সোনি বনাম রামদুলারি’ মামলার রায় উল্লেখ করে, যেখানে আলোচনা করা হয়েছিল যে কীভাবে ব্যভিচার সাধারণত পারিপার্শ্বিক অবস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়, কারণ প্রত্যক্ষ প্রমাণ খুব কমই পাওয়া যায়।

আর পড়ুন: মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকীতে কটি স্পেশাল শাড়ি বানিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা?

এই রায়ে স্পষ্ট করা হয় যে, বিবাহবিচ্ছেদের অন্যান্য কারণগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত সম্ভাবনার প্রাবল্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। অর্থাৎ, যেখানে ঘটনার কোন সংস্করণটি সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তা বিবেচনা করা হয়। কিন্তু, ব্যভিচার অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রমাণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সবশেষে পাটনা হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, স্বামী তাঁর অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাঁর নির্যাতনের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আদালত ওই স্বামীর আপিল খারিজ করে দিয়েছে এবং বিবাহবিচ্ছেদে ফ্যামিলি কোর্ট যে অস্বীকৃতি দেখিয়েছে, সেটাই বহাল রাখা হয়েছে।

আরও Patna High Court