আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: চায়ের দোকান থেকে শুরু করে জামাকাপড়ের দোকান, দেশের ছোট-বড় প্রায় সব ব্যবসাতেই নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছে ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা UPI। খুচরো না থাকলেই এখন ডিজিটাল লেনদেনই কাজ সারেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে UPI-এর মাধ্যমে টাকা নেওয়া এখন অনেক ব্যবসায়ীর কাছে দৈনন্দিন কাজেরই অংশ। কিন্তু এই মুহূর্তে KYC সংক্রান্ত কিছু নতুন নিয়ম সামনে এসেছে। এই নিয়ম ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ না হলে দেশের বহু ছোট ব্যবসায়ীর UPI পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা, কী কী করণীয়?
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল ব্যবসায়ীদের KYC প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতেই হবে। কিন্তু এত অল্প সময়ে? এই কয়েকটা দিনের মধ্যে লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ীর নথি যাচাই করা বেশ কঠিন বলে দাবি করেছে ফোনপে, পেটিএম-এর মতো পেমেন্ট সংস্থাগুলি। তাদের পক্ষ থেকে সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সময়সীমা না বাড়লে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকেই অনেক দোকানে UPI পরিষেবা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমস্যায় দেশের ছোট দোকানদাররা
নতুন করে KYC করার বিষয়টিই মূলত দোকানদার কথা ব্যবসায়ীদের কাছে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ছোট দোকানদার ও ফুটপাতের বিক্রেতাদের অনেকেই এখনও এই প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে KYC সম্পূর্ণ না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে দোকানে থাকা QR কোড এবং সাউন্ডবক্সও আর কাজ করবে না। ফলে ক্রেতারা চাইলেও UPI-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন না, কেবলমাত্র ক্যাশের মাধ্যমেই পেমেন্ট করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: এখনও একবারও পাননি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? মিলবে কিনা জেনে নিন
কেন সময় চাইছে পেমেন্ট সংস্থাগুলি?
গোটা দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ দোকান। পেমেন্ট সংস্থাগুলির দাবি, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকা ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে নথি সংগ্রহ ও যাচাই করাটা এতটাও সহজ বিষয় নয়। তার উপর ২০২৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী, এই কাজ কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে, কোনও তৃতীয় পক্ষ বা অস্থায়ী কর্মীর এই কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সংস্থার স্থায়ী কর্মীরাই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে KYC সংক্রান্ত যাবতীয় যা যা দরকার সেগুলি সংগ্রহ করতে পারবেন। যদি নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয় তাও এই বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ীর প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেকটাই সময় লেগে যাবে। ফলে সময়সীমা বাড়ানো না হলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ছোট ব্যবসায়ী গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আনুমানিক ১০ লক্ষেরও বেশি দোকানদার এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারেন। ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সময়সীমা কি বাড়াবে কর্তৃপক্ষ? এখন সেটাই দেখার বিষয়।









