অনন্যা সরকার, কলকাতা: ব্যাংককে লিঙ্গ বড় করার চিকিৎসা (Penis Enlargement Procedure) করাতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৪৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো “টাইনি” উবিরিবো (Igho “Tiny” Ubiribo)। স্ত্রী সহ থাইল্যান্ডে ছুটি কাটানোর সময় গত ৫ মার্চ তিনি একটি নাম-পরিচয়হীন ক্লিনিকে ওই চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন, পরে বুকে ব্যথা করায় তাঁকে সুকুমভিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা দেখেন তাঁর ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সিপিআর (CPR) দেওয়া সত্ত্বেও ৬ মার্চ উবিরিবো মৃত্যুবরণ করেন।
অনামী ক্লিনিকের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
গত মার্চ মাসে স্ত্রীকে নিয়ে ব্যাংককে ছুটি কাটাতে গিয়ে ইঘো এই কসমেটিক বা সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসাটি (Cosmetic Treatment) করান। ‘ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনরস কোর্ট’-এ হওয়া তদন্ত থেকে জানা গেছে যে, থাইল্যান্ডের একটি ক্লিনিকে তাঁর লিঙ্গে ৪০ মিলিলিটার হিয়ালুরোনিক অ্যাসিড (Hyaluronic Acid) এবং লিডোকাইন (Lidocaine) ইনজেকশন দেওয়া হয়।
চিকিৎসা পর্ব শেষ হওয়ার পর, ইঘো উবিরিবো ও তাঁর স্ত্রী ম্যাসাজ নিতে যান। জানা গেছে, ম্যাসাজ নিতে গিয়ে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং দুবার জ্ঞানও হারান। এরপর তাঁকে দ্রুত ব্যাংককের সুখুমভিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁর দেহে ‘পালমোনারি এমবোলিজম’ (Pulmonary Embolism) শনাক্ত করেন। এটি এমন একটি প্রাণঘাতী অবস্থা যেখানে ফুসফুসের কোনও রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়। ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সিপিআর (CPR) দেওয়া সত্ত্বেও, ইঘো উবিরিবোকে বাঁচানো যায়নি। ৬ মার্চ ভোরের দিকে তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন: রাতারাতি শুকিয়ে গেল আর্জেন্টিনার বিশাল সমুদ্র? জানুন ভাইরাল ভিডিওর আসল সত্যি
পরে, যুক্তরাজ্যে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। যেখানে ফুসফুসে এমন কিছু কোষীয় উপাদান পাওয়া যায়, যা ওই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হিয়ালুরোনিক অ্যাসিডের সাথে হুবহু মিলে যায়, এর মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর সাথে ওই কসমেটিক চিকিৎসার যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে।
ইনস্টাগ্রামে ১ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার থাকা ইঘো উবিরিবো তাঁর লস অ্যাঞ্জেলেস ও লন্ডনে থাকা দামি সব সম্পত্তি ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। লন্ডনে বড় করে তাঁর শেষকৃত্য আয়োজন করা হয়, যেখানে নাইজেরিয়ান সঙ্গীত তারকা ডেভিডো সহ আরও অনেক তারকা উপস্থিত ছিলেন। লিঙ্গে হিয়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার খুবই ব্যয়বহুল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এর প্রভাব সাধারণত কয়েক মাস স্থায়ী হয়। ইঘো “টাইনি” উবিরিবোর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি কসমেটিক পদ্ধতিতে লিঙ্গে ফিলার ব্যবহারের সাথে জড়িত সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকটি নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে।










