আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বড়সড় অংকের টাকার গন্ডগোল! অভিযোগে নাম জড়াল Zee-র প্রতিষ্ঠাতা তথা এসেল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের (Subhash Chandra)। LICHFL-এর অভিযোগের ভিত্তিতে এবার তাঁর বিরুদ্ধে ১,৩২২ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত মামলায় এফআইআর দায়ের করেছে CBI। অভিযোগ, ঋণ নেওয়ার সময় তাঁর সম্পত্তির মোট পরিমাণ অনেকটাই বেশি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই ঋণ পরিশোধ হয়নি। ফলে এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৩১ অগস্ট এই অভিযোগের ভিত্তিতেই FIR দায়ের করে সিবিআই।
৯৮০ কোটি টাকার ঋণ!
CBI-এর এফআইআরে থাকা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চারটি সংস্থাকে মোট ৯৮০ কোটি টাকার দুটি ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয় বসন্ত সাগর প্রপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডকে। অন্যদিকে ৪৮০ কোটি টাকা দেওয়া হয় ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এবং স্পিরিট ইনফ্রাপাওয়ার অ্যান্ড মাল্টিভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে। দুই ক্ষেত্রেই সুভাষ চন্দ্র ব্যক্তিগত ভাবে ঋণ শোধ করার গ্যারান্টি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
সম্পত্তির হিসাবেই বড় গরমিল
এই মামলায় বাকি সব কিছুকে একদিকে আর সুভাষ চন্দ্রের সম্পত্তির গরমিল আরেক দিকে। এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের অভিযোগ, ২০১৮ সালের মার্চে দেওয়া একটি সম্পত্তির শংসাপত্রে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুভাষ চন্দ্রের সম্পত্তির পরিমাণ ৬,১৯৭.৬২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫৯,১১৩.২১ কোটি টাকা দেখানো হয়েছিল। আবার দ্বিতীয় একটি শংসাপত্রে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০,৫৬২ কোটি টাকা দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। অর্থাৎ দুই শংসাপত্রে সম্পত্তির পরিমাণে আকাশ পাতাল তফাৎ।
কিন্তু পরবর্তীতে ব্যক্তিগত দেউলিয়া সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সুভাষ চন্দ্র ওই বিপুল সম্পত্তির হিসাব নিয়ে আপত্তি জানান বলে অভিযোগ। ফিরে-এ বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে তাঁর নিজের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩১.৭৯ কোটি টাকা। এমনকী ২০১৭-১৮ সালেও তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০,০০০ কোটি টাকার বেশি ছিল না বলে তিনি দাবি করেছিলেন। ফলে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সম্পত্তির হিসাবের এই আকাশ পাতাল পার্থক্যই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দুই ঋণেই টাকা বাকি
এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের অভিযোগ অনুযায়ী, দুটির মধ্যে একটি ঋণও শোধ করা হয়নি। বসন্ত সাগর সংক্রান্ত ঋণে বকেয়া ছিল ৫৭০.৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার সংক্রান্ত ঋণে বকেয়া ছিল ৫০৭.২৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের দাবি, সুদ ও অন্যান্য খরচ-সহ তাদের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১,৩২২ কোটি টাকার বেশি।
আরও পড়ুন: চিনকে জোর ধাক্কা! শ্রীলঙ্কার কৌশলগত কাঙ্কেসানথুরাই বন্দর পাওয়ার পথে ভারত
রয়েছে আরও অভিযোগ
এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্স আরও অভিযোগ করেছে, সুভাষ চন্দ্র ঋণ নেওয়া সংস্থাগুলির আধিকারিক ও পরিচালকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সম্পত্তির মূল্য বাড়িয়ে দেখানোর প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন। সেই নথির ভিত্তিতেই নাকি ঋণ দেওয়া হয়েছিল। ঋণের টাকা পাওয়ার পর তার অপব্যবহার করা হয় এবং ঋণ আদায়ে বাধা দিতে সম্পত্তি সরিয়ে ফেলার মতন অনৈতিক চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। তবে পুরো বিষয়টিই এখনও অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। CBI এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। তাই আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সুভাষ চন্দ্র বা অন্য অভিযুক্তদের সরাসরি দোষী বলে দাগিয়ে দেওয়া যাবে না।









