সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বড়সড় চুক্তি (India-Sri Lanka Deal)। ৬১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে কাঙ্কেসানথুরাই বন্দরের উন্নয়নে এবার দুই দেশ কোমর বেঁধে নামছে। এমনকি প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কিত বেশকিছু অমীমাংসিত বিষয়ও ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে বলে খবর। এতে দুই দেশের অর্থনীতি আরও ত্বরান্বিত হবে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। তবে ভারতের জন্য ঠিক কতটা উপকারে আসবে এই চুক্তি?
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, শ্রীলঙ্কার উত্তর উপকূলে জাফনার কাছে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সূত্রে বন্দরটি সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শনিবার কলম্বোতে উভয় দেশের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বন্দর ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী অনুরা করুণাতিলকা এবং ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার মৈত্রেয় কুলকার্নি।
আলোচনা চলাকালীন সময় উভয় পক্ষ সমঝোতা স্মারক সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত করে। এমনকি এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটি ও একটি কারিগরি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, প্রস্তাবিত এই কাঙ্কেসানথুরাই বন্দরের উন্নয়ন শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য চলাচল সহজ করবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ আরও বাড়বে।
আরও পড়ুন: “তৃণমূল মানেই চোর” রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে বিস্ফোরক চিরঞ্জিত
বন্দরটি একসময় শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র ছিল। তবে তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে কয়েক দশক ব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় এটি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে। তবে উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধোত্তর উন্নয়নের জন্য এর পুনর্নির্মাণ বর্তমানে অপরিহার্য বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি শ্রীলঙ্কার জন্য প্রধান অবকাঠামো অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ, সংকটের পর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে যেখানে কলম্বো বিদেশি বিনিয়োগ খুঁজছে, সেখানে এই চুক্তি হতে পারে বিরাট সমাধান।










