“তৃণমূল মানেই চোর” রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে বিস্ফোরক চিরঞ্জিত

Published:

TMC Chiranjeet Mamata Banerjee

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ হলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। একসময় ভীষণভাবে সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) হয়ে বারাসাতের বিধায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে রাজনীতিতে আসা যে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধেই রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন, এ কথা আগেও জানিয়েছেন অভিনেতা। প্রায় ১৫ বছর রাজনীতিতে থাকার পর ‘মোহভঙ্গ’-এর কথা জানিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান চিরঞ্জিত। এবার বারাসাতের রাজনীতি থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। তাঁর কথায় উঠে এল রাজনীতিতে আসা, সরে যাওয়া এবং দুই ভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন।

বারাসাত প্রসঙ্গে চিরঞ্জিত বলেন, “বারাসাতে আমার অনেক কাছের মানুষ রয়েছেন। পলিটিক্সের লোক আমি নই। পলিটিক্সে আমি যেতেও চাইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক অনুরোধ করেছিলেন তাই এসেছিলাম।” তবে রাজনীতিতে প্রায় ১৫ বছর কাটানোর পর তাঁর ‘মোহভঙ্গ’ হয় বলেই জানান অভিনেতা। তাঁর দাবি, চারপাশে “অনেক ভুল কাজকর্ম” হচ্ছে বুঝতে পেরেই তিনি রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকী বারাসাতের মানুষকে হাতজোড় করে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের তাঁকে প্রার্থী করলেও জনগণ যেন তাঁকে ভোট না দেন। চিরঞ্জিতের কথায়, “আমি বোধহয় একমাত্র ইলেকশনে দাঁড়ানো ক্যান্ডিডেট যে টিকিট পেয়েও বলছে আমাকে ভোট দেবেন না।”

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট চিরঞ্জিত?

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কেও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন চিরঞ্জিত। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। উনি কিন্তু বহু লড়াই করে এই জায়গাটায় এসেছেন। সেই নন্দীগ্রাম থেকে তাঁর অবদান রয়েছে।” কয়েক মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শুভেন্দুর আমলে কিছু “পজিটিভ সাইন” দেখতে পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন অভিনেতা। তাঁর আশা, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে। অর্থাৎ, রাজনীতি থেকে সরে গেলেও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যে তিনি নজর রাখছেন, তাঁর মন্তব্যেই তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু রুখতে বড় পদক্ষেপ সরকারের, ১৬০০-টিরও বেশি ওয়ার্ডে চলল সাফাই অভিযান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অভিনেতার দৃষ্টিভঙ্গি

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে চিরঞ্জিতের বক্তব্যে একইসঙ্গে রয়েছে আবেগ, শ্রদ্ধা এবং তীব্র হতাশার সুর। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার খুবই প্রিয় মানুষ। আমি ওঁর আদর্শ ফ্যান ছিলাম।” তাঁর মতে, বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের পর পরিবর্তন আনার ক্ষমতা একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই ছিল এবং তিনি তা করে দেখিয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর মনে হয়েছে, “আস্তে আস্তে ওঁর হাত থেকে কন্ট্রোলটা চলে গিয়েছিল।” তৃণমূল প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য আরও কড়া। চিরঞ্জিতের কথায়, “তৃণমূল মানেই আমার কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁকে ছাড়া তৃণমূল হয় না। আলাদা করে আমার কাছে তৃণমূলের কোনও ভ্যালু নেই।” একইসঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিসরে তৃণমূলকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘চোর’ তকমা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। “শুনতে খারাপ লাগে কারণ আমিও তো একসময় তাদেরই লোক ছিলাম।”