সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাসুদেবপুর (Basudebpur) হাইস্কুলে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এবার গ্রেফতার স্থানীয় তৃণমূল নেতা। ঘটনায় অভিযুক্ত ইংরেজি শিক্ষককে আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যায় বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা বাসুদেবপুর হাইস্কুলের প্রাক্তন সভাপতি কাজল সামন্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, স্কুলের ওই ইংরেজি শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
জানিয়ে রাখি, বিগত ১১ ফেব্রুয়ারি বাসুদেবপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শ্রেয়া হাইতের রহস্যমৃত্যু হয়। ওই পড়ুয়ার বয়স ছিল আনুমানিক ১৫ বছর। এরপর তাঁর বাবা বিশ্বজিৎ হাইত দাসপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার আগে ইংরেজি শিক্ষক গৌতম সিনহার সঙ্গে শ্রেয়ার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ কল ও চ্যাট হয়েছিল বলেই দাবি করেন। কিন্তু পরে শিক্ষকের সঙ্গে হওয়া সেই চ্যাট উদ্ধার করে কিছু মুছে ফেলার প্রমাণও পেয়েছেন তাঁরা, এমনটাই অভিযোগ।
এদিকে শ্রেয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রিকভারি নম্বর হিসেবে শিক্ষকের ফোন নম্বর যুক্ত ছিল বলেও দাবি পুলিশের। সেখান থেকেই মূল অভিযুক্ত হিসাবে ওই ইংরেজি শিক্ষকের নাম উঠে আসে। তবে ওই অভিযুক্তকে ৬ মাস পর অর্থাৎ গত ১০ আগস্ট পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, তাঁকে আড়াল করা এবং মৃতার পরিবারকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কাজল সামন্ত।
অভিযুক্ত শিক্ষক গৌতম সিনহার বয়ানের উপর ভিত্তি করেই তৃণমূল নেতা কাজল সামন্তকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনও ভাবেই যুক্ত নন। তাঁকে অযথা ফাঁসানো হচ্ছে। তবে শ্রেয়ার পরিবারের বক্তব্য, পুলিশ তদন্ত করছে এবং এই ঘটনায় যাঁরা অপরাধী, তাঁদের তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেককেই শাস্তি দেওয়া উচিত। এমনকি পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পিছনে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করে বার করা হবে।










