নেন প্রায় ৩ কোটির ঋণ, ফেরত না দেওয়ায় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের সম্পত্তি এখন ব্যাঙ্কের দখলে

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল (Trinamool Congress) শাসনে বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে নিয়েছিলেন প্রায় 3 কোটি টাকার ঋণ (Bank Loan)। সময় মতো সেই অর্থ না মেটানোয় এবার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল। পুলিশের উপস্থিতিতেই ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি সহ জমি দখল করল বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। বীরভূমের (Birbhum) দরাজপুরের ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ উঠলেও তিনি অবশ্য সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, আগেই চেকের মাধ্যমে তিনি মোটা টাকা পেমেন্ট করে দিয়েছেন।

ব্যাঙ্কের টাকা না দেওয়ার শাস্তি ভুগতে হল তৃণমূল নেতাকে

বীরভূমের  দুবরাজপুরের রঞ্জনবাজার এলাকার অত্যন্ত পরিচিত মুখ ওই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। নাম বনমালী ঘোষ। জানা গিয়েছে, 2023 সালের ভরা তৃণমূল জামানায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় 3 কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। তবে দুবরাজপুর পুরসভার 1 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরাসরি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েও নিয়মিত ওই অর্থ মেটাতে অস্বীকার করছিলেন!

বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রায় 3 কোটি টাকার ঋণ নিয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অর্থ ব্যাঙ্ককে পরিশোধ করছিলেন না তিনি। মূলত সে কারণেই শেষমেষ গতকাল অর্থাৎ শনিবার পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ওই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা দেয় বেসরকারি ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা। প্রশাসনিক সহযোগিতায় বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেন ব্যাঙ্কের কর্মীরা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে।

এদিকে অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের অভিযোগ, প্রায় 3 কোটি টাকার ঋণ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সরাসরি না দিয়ে  মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দিয়েছিল। একই সাথে খাতায়-কলমে ঋণ প্রায় 3 কোটি টাকা দেখানো হলেও তাঁর কাছ থেকে নাকি চেকের মাধ্যমে 40 লাখ টাকা নিয়েছে ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও গত দু’বছর ধরে তিনি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে এসেছেন। বনমালী ঘোষ আরও জানান, তিনি গত 14 আগস্ট জানতে পেরেছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে সিজিএমের নির্দেশ জারি হয়েছে। তবে ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পাওয়া গেলেও তাঁকে সময় দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: BCCI-র এই এক সিদ্ধান্তে শীঘ্রই মন ভাঙতে পারে বৈভব সূর্যবংশীর

ওই তৃণমূল নেতা এও জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি ওই বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কলকাতার অফিসে যোগাযোগ করে তিন মাসের সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। একই সাথে দ্রুত ঋণ সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তির আবেদন করেন তিনি। তবে ওই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নাকি তাঁর সমস্ত আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। আর তারপরেই শনিবার তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বাড়ির দখল নেয় ব্যাঙ্ক কর্মীরা। তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, তিনি ওই বাড়িতে নিজের বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। পুলিশ একেবারে জোর করে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে! এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ব্যক্তি। এই মামলার শুনানি আগামী 28 সেপ্টেম্বর।