“মমতা ভালো ছিল, শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কী হল?” চাকরি দুর্নীতি মামলায় বিস্ফোরক সুমন

Published:

Suman Biswas

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ৩১ আগস্টের মেয়াদ শেষ। সময়মতো নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারেনি স্কুল সার্ভিস কমিশন। সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করায় যোগ্যদের চাকরি আরও ৬ মাস বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে। তবে এর মধ্যেই নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে এসএসসি-কে। এটাই শেষ সময়সীমা বলে জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফলে ১৭ হাজার যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন। এ নিয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কাঠগড়ায় তুললেন সুমন বিশ্বাস (Suman Biswas)।

এসএসসি মামলা নিয়ে বিস্ফোরক সুমন বিশ্বাস

তৃণমূলের আমলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে বাতিল হয় ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল। যার জেরে চাকরি গিয়েছিল ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীর। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ৩১ আগস্টের মধ্যেই এসএসসি-কে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে তার মধ্যে রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পাশাপাশি অন্যান্য কারণে সেই ডেডলাইনের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারেনি এসএসসি। সেই সূত্রে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আরও ৬ মাস যোগ্যদের চাকরি বাড়ানোর আবেদন জানায় কমিশন। সর্বোচ্চ আদালত সেই দাবি মেনে নিলেও বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটাই শেষ সুযোগ।

এদিকে এ নিয়ে এবার রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন চাকরিহারা শিক্ষকদের আন্দোলনের মূল সংগঠক সুমন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে আপনারা অযোগ্য দাগিদের বেতন কেন ফেরত নিচ্ছেন না? মমতা ব্যানার্জি নেননি। তাঁর সরকার চোর ছিল। আপনারা তো এসেছেন দুষ্টের দমন, শিষ্ঠে পালন করার জন্য। তাহলে আপনারাও তো দেখছি চাকরি চুরির কলঙ্কের চটিতে পা গলিয়ে হাঁটার চেষ্টা করছেন। চাকরি চুরিতে ৪ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হলেও মাত্র ৫৫৯ কোটি টাকা উঠেছে। বাকি টাকা কোথায়?”

আরও পড়ুন: ১৩২২ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে FIR সিবিআইয়ের

তাঁর আরও দাবি, “কেন্দ্র মোদিজীর হাতে। রাজ্য শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। তাহলে তাঁরাও চাকরি চোরদের আড়াল করতে চায়? শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কী ফায়দা হল? মমতা ব্যানার্জিই তো ভালো ছিল। আমরা জানতাম মমতা ব্যানার্জি চোরদের শাস্তি দিতেন না। আমরা জীবনকে বাজি রেখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়লাম, আর আপনি আজকে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বলছেন ঠিক আছে যা হয়েছে হয়েছে? যাঁরা অযোগ্য, তাঁদের বেতন ফেরত না নেওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অবমাননা করা হবে।”