আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল (TMC) বিধায়ক (MLA) পরেশরাম দাসের (Paresh Ram Das) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য। আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগের একটি ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন এক মহিলা। বুধবার ক্যানিংয়ের SDPO-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। মহিলার অভিযোগের উপর ভিত্তি করে ক্যানিং থানায় ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরেশরাম দাস। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাঁকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।
পঞ্চায়েতের টিকিটের প্রতিশ্রুতির অভিযোগ
অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে পঞ্চায়েত সদস্যের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পরেশরাম দাস তাঁর কাছে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা বিধায়কের হাতে তুলে দিতে সে মহিলা তাঁর তৈরি বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে ঘরের ভিতরে আটকে রেখে শারীরিক হেনস্থা করা হয়। এরপরই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মহিলার আরও বলেন, ঘটনার পর ক্যানিং থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও সেই সময় FIR নেওয়া হয়নি।
বাড়িতে হামলা ও বোমাবাজির অভিযোগ
ঘটনার পর পুলিশে অভিযোগ জানাতে যাওয়ায় MLA পরেশরাম দাসের ভাড়া করা লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়, এমনটাই জানান মহিলা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বিধায়কের নেতৃত্বে সেখানে নাকি বোমাবাজিও হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আতঙ্কে প্রায় তিন বছর বাড়ির বাইরে ছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারিণী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সাহস করে ফের পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে থাকার কারণেই এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আসতে পারেননি।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই সুখবর, এইদিন থেকে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩৮% DA
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, ‘‘টিকিট দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিল। পরে আমাকে ঘরে আটকে মারধর করে ধর্ষণ করা হয়।’’ অন্যদিকে, MLA নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁকে নাকি পরিকল্পনা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আপাতত মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।









