‘সেবাশ্রয়’-র নামে রিসর্ট দখল করে তোলাবাজির অভিযোগ! ফের অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR

Published:

Abhishek Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জমছে অভিযোগের পাহাড়! ‘সেবাশ্রয়’- এর (Sebaashray) নামে ফের অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে নতুন FIR দায়ের হল বিষ্ণুপুর থানায়। জানা গিয়েছে, এবার সেবাশ্রয়ের নামে পৈলানে রিসর্ট দখল করে তোলাবাজির অভিযোগ। সেখানকার ইকো ক্রিক ক্লাবে প্রায় ৪০ দিন রিসর্ট দখল করেছিল তৃণমূল। আর সেই বকেয়া টাকা চাইতে গেলে অভিষেকের অনুগামীরা রিসর্ট ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়। এখানেই শেষ নয়, উল্টে ২৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়। ইতিমধ্যেই FIR এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বিষ্ণুপুর থানা।

সেবাশ্রয়ের নামে পৈলান রিসর্টে তোলাবাজি

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাধারণ জনগণের সুবিধার্থে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ড হারবারে অন্যতম স্বাস্থ্যশিবির ‘সেবাশ্রয়’ চালু করেছিল। কিন্তু সেটাই এবার তাঁর কাল হয়ে দাঁড়াল। ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠে এসেছে এই ক্যাম্পের বিরুদ্ধে। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীদের অঙ্গ হানির পাশাপাশি প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া, অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরিবর্তে জুনিয়র ডাক্তারদের দিয়ে চিকিৎসা করানো, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে দুর্নীতি একাধিক অভিযোগ। আর এবার তোলাবাজির অভিযোগ উঠল। জানা গিয়েছে, পৈলানে রিসর্ট দখল করে সেবাশ্রয়ের ডাক্তার-কর্মীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু বকেয়া টাকা চাইতে গেলেই হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল সংস্থাকে।

তদন্তে নামল পুলিশ

অভিযোগ, রিসর্টে থাকা সেবাশ্রয়ের ডাক্তার-কর্মীদের খাওয়া-থাকা-সহ একাধিক পরিষেবার আর্থিক খরচ করতে হত এই রিসর্টের কর্তৃপক্ষকে। আর সেই খরচের বকেয়া টাকা চাইতে গেলে অভিষেকের অনুগামীরা রিসর্ট ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বারংবার। এমনকি তাদের থেকে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজিরও দাবি করেছিল। তা দিতে অস্বীকার করলে, প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই বিজেপি সরকার আসতেই ভয় কাটিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, অভিষেকের প্রাক্তন পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করল রিসর্ট কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই FIR রুজু করে তদন্ত শুরু করলেন DSP পদমর্যাদার পুলিশ অফিসার।

আরও পড়ুন: আজও বিকেলে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ, কোথায় কোথায় বৃষ্টি? আগামীকালের আবহাওয়া

দায়ের করা অভিযোগপত্রে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে প্রায় ১১০ থেকে ১২০ জন স্বাস্থ্যশিবিরের ডাক্তার ও কর্মীদের থাকা-খাওয়া সহ তাঁদের যাতায়াতের সমস্ত খরচ বহন করতে হয়েছিল রিসর্ট কর্তৃপক্ষকেই। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়েছিল তাদের। এখন দেখার পুলিশের তদন্তে আর কী কী অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।