আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুজোর মরশুমে সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট সুখবর। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসের বেতন সাধারণত মাসের শেষ দিকে অথবা পরের মাসের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে কর্মচারীদের (Employee) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সেই হিসেবেই সেপ্টেম্বর মাসের বেতন অক্টোবরের শুরুতেই পাওয়ার কথা। তবে এই বছর এই ব্যবস্থার সামান্য পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোর দীর্ঘ ছুটির কথা মাথায় রেখে অক্টোবরের বেতনও আগাম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। ফলে একই মাসে দু’দফায় বেতন পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে। এর সঙ্গে নির্দিষ্ট কর্মীদের জন্য উৎসব বোনাস বা অ্যাড-হক গ্রান্ট পাওয়ার সম্ভাবনাও প্রখর।
কবে কত টাকা আসতে পারে?
সেপ্টেম্বরের নিয়মিত বেতন স্বাভাবিক বেতন-চক্র মেনেই ১ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যাবে। এরপর যোগ্য পে-ব্যান্ডের কর্মীদের জন্য উৎসব বোনাস বা অ্যাডহক গ্রান্ট ৮ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে পাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোর আগে একটা দীর্ঘ সরকারি ছুটি শুরু হয়ে যাবে, তাই অক্টোবরের বেতন পিছিয়ে না দিয়ে আগেই মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে ১৩ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে আগাম বেতন অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হতে পারে। চলতি বছরের ছুটির সূচি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর চতুর্থী থেকে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী এবং পরে ২৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে ছুটি রয়েছে।
বেতনের অঙ্ক কীভাবে নির্ধারিত হবে?
কর্মী কত টাকা পাবেন, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদমর্যাদা, পে-লেভেল এবং প্রযোজ্য বেতন কাঠামোর উপর নির্ভর করবে। নিয়মিত মাসিক বেতনের ক্ষেত্রে বেসিক পে-র সঙ্গে প্রযোজ্য মহার্ঘ ভাতা বা DA, বাড়িভাড়া ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদিও যুক্ত হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট বেতনসীমার মধ্যে থাকা যোগ্য কর্মীরা উৎসব বোনাস বা অ্যাডহক বোনাস পেতে পারেন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের বেতন, অক্টোবরের আগাম বেতন এবং প্রযোজ্য বোনাস মিলিয়ে উৎসবের সময় অনেক কর্মীর হাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। যেমন যদি কোনও ব্যক্তির মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকা হয়, তাহলে বোনাস এবং অন্যান্য সমস্ত সুবিধা মিলিয়ে তিনি ৮০ হাজার টাকা পেতে পারেন।
আরও পড়ুন: জলপথে সংঘর্ষ ভারত-পাকিস্তানের, বড়সড় যুদ্ধের আশঙ্কা!
তবে পুরো বিষয়টি এখনও সরকারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর নির্ভরশীল। নবান্ন বা রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে আগাম বেতন সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ট্রেজারির মাধ্যমে আগাম বেতন পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়ে থাকলে, ১৪ অক্টোবরের মধ্যেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে সেই নির্ধারিত টাকা পৌঁছে যেতে পারে। তাই পুজোর আগে পরপর বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষা করতে হবে।










