প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিশ্বের দরবারে ভারতের জয়জয়কার, পদার্থবিদ্যায় এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসাবে অস্কার ক্লেইন পদক পেলেন ভারতীয় বিজ্ঞানী অশোক সেন (Physicist Ashoke Sen)। বৃহস্পতিবার প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই পদক (Academy Awards) অর্জন করেন তিনি। অতীতে এই পদক পেয়েছিলেন স্টিফেন হকিং ও পিটার হিগসের মতো বিজ্ঞানী। তাই স্বাভাবিকভাবেই কলকাতার এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে গর্বের হাসি হাসছে গোটা দেশ।
‘স্ট্রিং থিয়োরি’তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর অস্কার ক্লেইন মেডেল পেয়েছেন কলকাতার পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক অশোক সেন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেস (আইসিটিএস) এই পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছে গতকাল, শুক্রবার। জানা গিয়েছে স্ট্রিং থিয়োরি, কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপি এবং স্ট্রিং ফিল্ড থিয়োরি নিয়ে অশোক সেনের গবেষণা আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার গতিপথ বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। মূলত এই তত্ত্বের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের মৌলিক কণা ও প্রকৃতির শক্তিগুলির কাজ বোঝার চেষ্টা করেন। তাই সেক্ষেত্রে স্ট্রি অশোক সেনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
কলকাতায় পড়াশোনা অশোকের
সূত্রের খবর, ১৯৫৬ সালের ১৫ জুলাই কলকাতায় জন্ম অশোক সেনের। তাঁর বাবা অনিল কুমার সেন ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। তাই ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পরিবেশে বড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। শুরুর দিকে কলকাতার শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যাপীঠে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি IIT কানপুরে পড়েন। পরে আমেরিকার স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। বর্তমানে তিনি টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের অধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিয়োরেটিক্যাল সায়েন্সেস-এ কর্মরত।
আরও পড়ুন: চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর, ১১৪৫ সাব-সার্ভেয়ার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি PSC-র
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিয়োরেটিক্যাল সায়েন্সেস-এর অধিকর্তা রাজেশ গোপকুমার জানিয়েছেন, অতীতে যাঁরা এই অস্কার ক্লেইন মেডেল পেয়েছেন, তাঁদের তালিকাই এই সম্মানের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয়। ঠিক তেমনই সারা বিশ্বের পদার্থবিদদের মধ্যে অশোক সেনের অবস্থানের যথাযথ স্বীকৃতি হল এই পুরস্কার। এর আগেও একাধিক সম্মান পেয়েছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে আইসিটিপি পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার, ২০০১ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০০৯ সালে ইনফোসিস পুরস্কার পান তিনি। এছাড়াও ২০১৩ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৪ সালে ডিরাক পদকে সম্মানিত হয়েছিলেন অশোক।










