অনন্যা সরকার, কলকাতা: গত সপ্তাহেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী দুধ কুমার মন্ডল ঘোষণা করছিলেন শীঘ্রই রাজ্যে বিগত সরকারের চালু করা ‘কৃষক বন্ধু’ (Krishak Bandhu) প্রকল্পটিকে বন্ধ করে, সেই জায়গায় চালু করা হবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি (PM Kisan) প্রকল্প। এছাড়াও কৃষিমন্ত্রী কৃষক বন্ধুর সুবিধাভোগীদের তালিকা ভালোভাবে যাচাই করে তারপরেই তাদের নতুন প্রকল্পে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন। পিএম কিষান চালু হলে রাজ্য কী কী পরিবর্তন আসতে পারে, আসুন জেনে নিই।
কৃষক বন্ধুর তালিকা যাচাইয়ের কাজ শুরু
গত বৃহস্পতিবার নবান্নে কৃষিমন্ত্রী দুধ কুমার মন্ডল জানিয়েছেন যে, তিনি ইতিমধ্যেই দফতরের আধিকারিকদের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা করেছেন এই তালিকায় অনেক ভুয়ো ও অস্তিত্বহীন সুবিধাভোগী ঢুকে রয়েছেন। তালিকা ছাড়াই বাছাইয়ের পরেই যোগ্য ব্যক্তিদের পিএম কিষান প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান দুধ কুমার মন্ডল।
বর্তমানে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অধীনে সেই সমস্ত কৃষিজীবীরা বার্ষিক ১০,০০০ টাকা করে পাচ্ছেন, যাদের ১ একর বা তার থেকে বড় আকারের জমি রয়েছে। আর ১ একরের থেকে ছোট জমি থাকা কৃষিজীবীরা বছরে ন্যূনতম ৪,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকেন। এই প্রকল্পের জন্য সরকারের বছরে ৮,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ১.১৪ কোটি সুবিধাভোগীর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ জনগণনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে কৃষিজীবীর সংখ্যা ৭২ লক্ষ। ফলে প্রকল্পে নথিভুক্ত কৃষিজীবীদের সংখ্যা কিভাবে রাজ্যের মোট কৃষকের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেল, তাই নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মাসে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পুড়লে কত কিলোওয়াটের সোলার লাগবে? জানুন হিসেব-নিকেশ
পিএম কিষানে কী কী সুবিধা পাবেন?
এদিকে, পিএম কিষান প্রকল্পে কেন্দ্র সরকার সুবিধাভোগীদের বছরে ৬,০০০ টাকা করে দেয়। এই টাকা প্রতি চারমাস অন্তর তিনটি ২,০০০ টাকার কিস্তিতে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি ঢোকে।
বলা হচ্ছে, কৃষক বন্ধু বন্ধ করে যোগ্য উপভোক্তাদের প্রধানমন্ত্রী কিষান প্রকল্পের আওতাধীন করা হলে রাজ্যের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা অনেকটা কমবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য রাজ্যকে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়। যদি এটা বন্ধ করে পিএম কিষান চালু করা যায়, তাহলে রাজ্যের এই খাতে আর কোনও খরচ থাকবে না, কারণ সম্পূর্ণ প্রকল্পটির খরচ কেন্দ্র বহন করে।










