ভাঙবে সিভিক ভলান্টিয়ার মডেল! এবার সরাসরি পুলিশে নিয়োগ? বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার

Published:

West Bengal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের (West Bengal) পালা বদল হতেই এবার খবরের শিরোনামে উঠে এল সিভিক মডেল। ক্ষমতায় আসতেই এবার বিজেপি সরকার দেদার সিভিক নিয়োগে (Civic Volunteers) টানতে চলেছেন লাগাম! প্রশাসনিক কাঠামো উন্নত করতে এবার অফিসার ও কনস্টেবলদের পদ পূরণ করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী? প্রকাশ্যে এল বড় আপডেট।

চর্চায় সিভিক মডেল

একটি মামলায় হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা যাবে না। সরকারি নীতিতেও পুলিশের মূল কাজে তাঁদের যুক্ত না থাকার কথা বলা হয়েছিল সেই মামলায়। এক কথায় সিভিক ভলান্টিয়াররা যে পুলিশ নন, তা সাংবিধানিক ভাবেই স্পষ্ট করেছিল রাজ্যের উচ্চ আদালত। অথচ পুলিশ বাহিনীর অস্থায়ী ওই সিভিক ভলান্টিয়ারদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাপট এতটাই বেশি থাকে যে, ভয়ে ভয়ে থাকতে হত থানার ওসি থেকে শুরু করে সিনিয়র অফিসারদের। তবে এবার সেই সিভিক মডেল ভাঙতে বসেছে। নিয়োগ হতে চলেছে স্থায়ী পুলিশ অফিসার।

৪১ শতাংশ পদ এখনও ফাঁকা

২০১২–তে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা শুরু হয়েছিল। তৎকালীন সরকার জানিয়েছিল, পুলিশকে সহায়তা করা, ট্র্যাফিক সামলানো, উৎসবের সময়ে ভিড় সামাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাহিনী সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে গোটা রাজ্যে পুলিশ বাহিনীতে এখন সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৩ হাজারের আশপাশে। তার মধ্যে কলকাতা পুলিশে সাত হাজারের বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছে এদিকে পুলিশ কনস্টেবলের ৪১ শতাংশ পদ এখনও ফাঁকা। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশেও পাঁচ হাজার কনস্টেবলের পদ খালি। আর এবার সেই পদ পূরণ নিয়েই হয়তো মাঠে নামতে চলেছে নতুন সরকার।

বড় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

গত শনিবার, ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিয়েছিলেন। এরপরই আজ, সোমবার বিকেল ৫টায় হাওড়ার নবান্ন সভাঘরে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ পুলিশ-প্রশাসনের পদস্থকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিষয়ে একগুচ্ছ নির্দেশ দেবেন। এই প্রসঙ্গে পুলিশ বাহিনীর একাংশের আশঙ্কা, এর আগে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের বঞ্চনা নিয়ে সরব হতেন, এবার আশা করা যাচ্ছে, পুলিশি নিয়োগের দিকে বেশি নজর দেবেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসেই অ্যাকশনে নতুন সরকার, গরু পাচার রুখতে নেওয়া হচ্ছে বড় পদক্ষেপ

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আজকের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে চলেছেন সিআইডি, এসটিএফ, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ, ট্র্যাফিক বিভাগ, টেলিকম শাখা, প্রশিক্ষণ বিভাগ, উপকূল নিরাপত্তা এবং সশস্ত্র পুলিশের আধিকারিকরাও। অর্থাৎ গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামোকেই এক ছাদের তলায় আনতে চাইছে নতুন বিজেপি সরকার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশকর্মীদের শূন্যপদ পূরণ হলে একদিকে যেমন রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, ঠিক তেমনই রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর উন্নতি হবে।