প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বাল্যবিবাহ (Child Marriage In West Bengal) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কড়া নির্দেশ মিললেও হল না কাজ, গোপনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদে (Murshidabad)। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই পুলিশের তৎপরতায় বন্ধ করা হল সেই বেআইনি বিয়ে। আটক করা হল নাবালিকা এবং তার মাকে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
চুপিসারে নাবালিকার বিয়ের তোড়জোড়
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বুধবার, রাতে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গাজিনগর এলাকায় গোপনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার অভিযোগ উঠেছিল। আর এই গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত ময়দানে নামে সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরাও। সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের সমস্ত আয়োজন বন্ধ করে দেয় এবং নাবালিকা এবং তার মাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এবং নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি পরিণতি সম্পর্কে গোটা পরিবারকে সচেতন করা হয়।
বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
গত সোমবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, “১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসবের নিরিখে গোটা দেশে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। শুধু তাই নয় ১৮ বছরের নীচে কন্যারা সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। কোন জমানায় বসে আছেন? এবার তাঁদের স্বামীদের জেলে ঢোকাতে হবে। এই সরকার কিন্তু ছাড়বে না। বাড়ি বাড়ি থেকে তুলে আনবে। স্বামীদের শোকজ চিঠি পাঠানো হবে প্রমাণ করতে হবে মহিলার বয়স ১৮ হয়েছে আর আঠারো বছরের নিচে বিয়ে করলে তো আগেই পকসো আইনে জেলে যাবে।” এদিকে সেই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও ফের বাল্যবিবাহ দেখা গেল মুর্শিদাবাদে।
আরও পড়ুন: দাসপুরে স্কুলের বাথরুমে অশালীন ভিডিও বানিয়ে বিপাকে ছাত্রীরা, অভিনব শাস্তি কর্তৃপক্ষের
সম্প্রতি বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা আইনজীবি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বিজেপির ঘরেই বাল্য বিবাহ বেশি পাবেন। সনাতনী হিন্দুরাই তো সবথেকে বেশি বাল্য বিবাহ করেন। যদি পকসো আইনে দোষী হয়, তাহলে জেল দিয়ে দিতে পারে। বাল্য বিবাহ প্রথম বন্ধ করেছেন রাজা রামমোহন রায়। চাইল্ড লেবার, সবাই বন্ধ করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও হচ্ছে।” যদিও এই মন্তব্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, “পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে দেশের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই প্রেগন্যান্ট হয়েছিল, যা সরকারের অক্ষমতাকে বোঝাচ্ছে।”










