সৌভিক মুখার্জী, বারাসাত: ভোররাতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতের (Barasat) নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে মঙ্গলবার ভোরে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। এমনকি সেই শব্দের তীব্রতা এতটাই ছিল যে এলাকার মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখা যায় গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। প্রথমে ওই বিস্ফোরণের কারণ কী তা না জানা গেলেও পরে জানা যায় যে পুলিশ ফাঁড়িতে মজুদ করে রাখা উদ্ধার হওয়া বাজিতেই আগুন লেগে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বারাসাতের পুলিশ ফাঁড়িতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী খবর, ওই ফাঁড়িতে বিগত ২-৩ দিন আগে এলাকা থেকে বাজি উদ্ধার করে রাখা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ করে সেই বাজির গুদামে আগুন লেগে যায়, এবং এতেই একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। এমনকি ওই বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, এবং গোটা ফাঁড়ি এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। এরপর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। কিন্তু গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আসলে ওই পুলিশ ফাঁড়িটি বসতিপূর্ণ এলাকার মাঝেই অবস্থিত। কিন্তু হঠাৎ করে এই বিস্ফোরণের শব্দ কানে আসতেই হুড়োহুড়ি লেগে যায় আমজনতার মধ্যে। এমনকি ঘিঞ্জি এলাকা সত্ত্বেও কেন বিপুল পরিমাণ বাজি মজুদ করে রাখা হল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এমনকি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের আরও দাবি, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি বেআইনি বাজি কারখানা গড়ে উঠেছে। সেখান থেকেই এই বিপুল পরিমাণ বাজি উদ্ধার করে ফাঁড়িতে রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: আজ অনেকটাই বদলে গেল সোনা ও রুপোর দাম, দেখুন নতুন রেট
যদিও এই ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, ২০২৩ সালে বারাসাত সংলগ্ন দত্তপুকুর এলাকায় একটি বাজির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, এবং সেখানে ৯ জনের মৃত্যু হয়। তবে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল সেই নীলগঞ্জ ফাঁড়ির বিরুদ্ধেই। এমনকি সেই সময় তৎকালীন ওসি-কে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ফের সেই একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি নতুন সরকারের আমলেও।










