সাপ ধরতে গিয়েই মর্মান্তিক মৃত্যু সর্পবন্ধু তপনের, শোক স্তব্ধ মেদিনীপুর

Published:

Snake Rescuer Dies

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কারোর বাড়িতে সাপ শিকার খবর পেলেই যে সবার আগে সাপ উদ্ধার করতে ছুঁটে যেত আজ সেই সাপই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল ‘সর্পবন্ধু’ তপন সিংহের প্রাণ (Snake Rescuer Dies)। জানা গিয়েছে, সোমবার মেদিনীপুরে (Medinipur) বিষধর খরিশ সাপটিকে নিরাপদে কৌটোয় ভরার সময় আঙুলে ছোবল খেয়ে মৃত্যু হল তাঁর। আর এই খবর জানাজানি হতেই তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকায় জুড়ে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের কুকুরমুড়ি এলাকায়। গত সোমবার, সন্ধ্যায় এক গৃহস্থের বাড়িতে সাপ ঢোকার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন ৫৪ বছরের ‘সর্পবন্ধু’ তপন সিংহ। প্রথমে একটি সাপ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন কিছুক্ষণ পর ওই একই জায়গা থেকে ফের আরও একটি সাপ বেরিয়ে আদায় ফের সেটিকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটিই কাল হয়ে দাঁড়ায়। একটি বিশাল আকৃতির খরিশ সাপ ক্যাচারের সাহায্যে কৌটোয় ভরার সময় আচমকাই তপনের আঙুলে ছোবল মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাপটি বেশ কিছুক্ষণ তাঁর আঙুল কামড়ে ধরে রেখেছিল। ফলে আঙুল ছাড়াতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তাঁকে। ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দিও করছিলেন অনেকে।

হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর

ভিডিওতে দেখা গিয়েছে তপন বাবু যখন সাপ ধরছিলেন সেই সময় বর্ষাকালে সাপের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার কথা বলছিলেন তিনি। সাপ দেখলে যাতে কেউ না মেরে বনদপ্তর কিংবা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এমনকি ওই সময় নদিয়ার এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেছিলেন। আর সেই কথাগুলি বলতে বলতেই আচমকা সাপটি তাঁর আঙুলে ছোবল মারে। প্রথমে বিষয়টি কাউকে না জানিয়েই নিজেই গাড়ি নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: গেরুয়া কার্পেটের উপর দিয়ে হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী, ছবি তুলে চরম কটাক্ষ কুণালের

এলাকায় ‘সর্পবন্ধু’ হিসেবে পরিচিত ৫৪ বছরের তপন সিংহের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের কুকুরমুড়ি এলাকায়। এই ঘটনা নিয়ে সর্প বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, সাপটি দীর্ঘ সময় ধরে আঙুল কামড়ে থাকায় শরীরে দ্রুত বিষ ছড়িয়ে পড়েছিল। আর তার ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তপন পেশায় একজন গাড়ির চালক। গাড়ি চালানোর পাশাপাশি সাপ ধরা, সাপ নিয়ে মানুষকে সচেতন করা তাঁর নেশা। এলাকায় ‘সর্পবন্ধু’ হিসেবে ছিল তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি। কিন্তু সেই সর্পবন্ধুরই সাপের ছোবলে মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।