“সরকারি হাসপাতালে কিছু খামতি আছে” চোরবাগান কাণ্ডে রেফার বিতর্ক নিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চোরবাগানের ঘটনাকে (Chorbagan stampede) কেন্দ্র করে বিতর্ক যেন কিছুতেই কাটছে না। এমনকি ওই ঘটনায় আহতদের কেন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে। আর সেই আবহে অবশেষে রেফার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেন্ট্রাল পার্কের রাবণ দহন অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে নবমীর রাতে রাজ্যের জরুরি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে কন্ট্রোল রুমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বিরাট স্ক্রিনে সরকারি হাসপাতালগুলির ব্যবস্থা-পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন তিনি।

বিভিন্ন হাসপাতালের উপর নজরদারি শুভেন্দুর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য সচিব-সহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা। জায়ান্ট স্ক্রিনে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের উপর নজরদারি চালিয়েছিলেন তিনি। এরপরই সরকারি হাসপাতালের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই চোরবাগানের ঘটনায় আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার স্পষ্ট যুক্তি দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, চোরবাগানে পদপিষ্টকাণ্ডে আরও মৃত্যু ঠেকাতেই আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি চিকিৎসকদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

‘রেফার’ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান যে, “মৃতের সংখ্যা যাতে আর না বাড়ে, সেই জন্যই ঘটনাস্থলেই আমরা আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তারপর আর মৃতের সংখ্যা বাড়েনি। চিকিৎসা চলাকালীন অনেকের মৃত্যু হয়। কিন্তু প্রাইভেটে তা হয়নি।” পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে কিছু খামতি রয়েছে বলেও তিনিও জানান। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল পর্যবেক্ষণ করার পর জন্য গিয়েছে কিছু হাসপাতালে এখনও খামতি আছে। সেখানে বেসরকারি হাসপাতালের মতো পরিকাঠামো উন্নতিতে ২ বছর সময় লাগবে। সবে তো ৬ মাস হল।”

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! বিজয়া দশমীতে বৃষ্টি হবে? আজকের আবহাওয়া

চিকিৎসকদের ডিউটি নিতে ক্ষোভ প্রকাশ

চিকিৎসকদের আচরণ ও ডিউটি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যে সমস্ত চিকিৎসক বা জুনিয়র চিকিৎসক যাঁরা রেফার নিয়ে কথা বলেছেন, তাঁরা সেই সময় ডিউটিরত ছিলেন কি না, তার একটা রিপোর্ট আমার সিএমও-তে দিতে হবে। যদি ডিউটি চলাকালীন বেরিয়ে এসে বিবৃতি দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা সার্ভিস রুলের পরিপন্থী।” কারণ, ডিউটিরত অবস্থায় নিজেদের দায়িত্ব ছেড়ে অন্য কাজ করা তা নিয়মের বাইরে এবং মানবিকভাবেও তা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে উৎসবের দিনগুলিতে হাসপাতালে চিকিৎসকদের একাংশের অনুপস্থিতির যে অভিযোগ উঠত, তা রুখতে বাড়তি সতর্কতাও নেওয়া হচ্ছে।

google button