প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বাগডোগরায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, ২০০৯ সাল থেকে বিজেপির (BJP) পাশে রয়েছে উত্তরবঙ্গ। এ বার পালা ঋণ শোধের। শুধু তাই নয় উত্তরবঙ্গের জন্য বিজেপির দেওয়া সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে (North Bengal) এসে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসবেন উন্নয়ন মন্ত্রী
প্রশাসনিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে এক বার করে তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা উত্তরবঙ্গে আসবেন। পাশাপাশি এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ভোটপ্রচারে এসে উত্তরবঙ্গের জন্য যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূরণ করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু।
IIT ও IIM ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে উত্তরবঙ্গে
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন খুব শীঘ্রই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে একটি নতুন ‘AIIMS’ নির্মাণ করা হবে এবং উত্তরবঙ্গে নতুন IIT ও IIM ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে। গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসাব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবং একটি ক্যান্সার হাসপাতালও নির্মাণ করা হবে। উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৪০টি। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ যে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তা বেশ বোঝাই যাচ্ছে। আর সেই কথা তুলেই এবার উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে বিজেপি-কে পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গ জায়গা দিয়েছে। এ বার উন্নয়নের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করব আমরা।’’ এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভোটপ্রচারে এসে উত্তরবঙ্গের জন্য যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূরণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ত্রিপল চোর তৃণমূল! বন্যার ত্রাণের ভূরি ভূরি সামগ্রী উদ্ধার ঘাটালে, দেখেই ক্ষেপল এলাকাবাসী
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়াকড়ি শুভেন্দু
উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘আমি প্রথম দিনই বলেছি তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি, সিন্ডিকেটরাজ, আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে গরিব মানুষের রক্ত চোষা, এটা আমাদের সরকার কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করবে না। অপরাধী কোন দলের, তার পরিচয় কী, সেটা দেখার দায়িত্ব পুলিশের নয়। পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, আইন তার নিজের পথে চলবে।” আশা করা যাচ্ছে আজ প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের চা বলয়, পর্যটন এবং বন্ধ বা থমকে যাওয়া কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পগুলিকে দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত করা নিয়ে যেমন বৈঠক হতে পারে ঠিক তেমনই হড়পা বান, ভূমিধস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।










