বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আগেই তারকেশ্বরের (Tarakeswar) পবিত্র শ্রাবণী মেলাকে (Srabani Mela) জাতীয় উৎসব হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শ্রাবণ মাসের পবিত্র তিথিতে পুণ্যার্থীদের স্নান যাত্রার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শ্রাবণী মেলার পবিত্র সময়ে তারকেশ্বরে বাবার মাথায় জল ঢালতে যান লাখ লাখ ভক্ত। রাজ্য তো বটেই বরং ভিন রাজ্য থেকেও বহু মানুষ আসেন ভোলানাথের দর্শন করতে। এদিকে আগামীকালই শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। আর ঠিক সেই দিনই ভক্তদের স্নানযাত্রাকে সামনে রেখে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
জল যাত্রীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে হবে পুষ্পবৃষ্টি
তারকেশ্বর এবং শ্রাবণী মেলা চিরকালই ভক্তদের কাছে আবেগের জায়গা। আগামীকাল শ্রাবণের প্রথম সোমবার বাবার মাথায় জল ঢালতে তারকেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন লাখ লাখ ভক্ত। আর সেই বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখেই বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যস্ততা একেবারে তুঙ্গে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তারকেশ্বর ধামের উদ্দেশ্যে জল যাত্রীরা রওনা হওয়ার পর তারকেশ্বরের রাস্তায় হেলিকপ্টারে করে জল যাত্রীদের উপর পুষ্প বৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
শুধু তাই নয়, শ্রাবণী মেলায় রেকর্ড ভক্তসমাগমের কথা মাথায় রেখে স্থল এবং জলপথে পূর্ণ্যার্থীদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। একই সাথে শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত দীর্ঘ 37 কিলোমিটার যাত্রাপথে 5 কিলোমিটার অন্তর অন্তর একটি করে সেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থা থাকবে। সেখানেই 24 ঘন্টা মিলবে চিকিৎসা পরিষেবা। শুধু তাই নয়, পুণ্যার্থীরা এখান থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ, ORS নিয়ে নিতে পারবেন। পাশাপাশি জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে ভক্তদের মধ্যে কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে সেবা কেন্দ্রেই মিলবে অ্যাম্বুলেন্স।
অবশ্যই পড়ুন: ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া অতীত! মশা মারতে বিশেষ ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের
এছাড়াও রাস্তার প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে থাকবে পুলিশ পোস্ট, গাইড ম্যাপ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। শোনা যাচ্ছে, ভক্তরা যখন নিমাই তীর্থ ঘাট থেকে জল নিয়ে হেঁটে তারকেশ্বর পর্যন্ত যাবেন, সেই পথে তাদের যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য গোটা রাস্তা মুড়ে ফেলা হয়েছে আলোয়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর পূর্ণর্থীদের নিরাপত্তা দিতে তৎপর হয়েছে হুগলি প্রশাসন। একই সাথে যান নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি করতে চলেছে পুলিশ। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামাল দিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নো এন্ট্রি ঘোষণা করে যান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে পুলিশ। তবে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য বিকল্প রুট বা রাস্তারও ব্যবস্থা থাকবে। সব মিলিয়ে বলাই যায়, দেবাদিদেব মহাদেবকে দর্শন এবং বাবার মাথায় জল ঢালতে আসা ভক্তদের যাতে সমস্যা না হয় সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার।










