শিক্ষক বদলির নয়া নিয়ম চালু, অগ্রাধিকার পাবেন এই টিচাররা

Published:

Teacher Transfer West Bengal

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্পনসরড স্কুলে শিক্ষক বণ্টনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে শিক্ষা দফতর। গত সোমবার এবিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মঙ্গলবারই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি (SOP) প্রকাশ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে যেসমস্ত স্কুলে কোনও ছাত্রছাত্রী নেই (Zero Enrolment School) অথবা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক রয়েছেন, সেখানকার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের বদলি (Teacher Transfer) করে সেই সমস্ত স্কুলে আনা হবে, যেখানে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে হবে, তা এসওপি বিশদে বলা রয়েছে। আসুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। 

শিক্ষক বদলি নিয়ে বড় পদক্ষেপ শিক্ষা দফতরের

রাজ্যে এমন অনেক স্কুল আছে, যেখানে কোনো পড়ুয়া নেই, অথচ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের আর সেই স্কুলে রাখা হবে না বলেই জানিয়েছে শিক্ষা দফতর। তাঁদের বদলি করে পাঠানো হবে শিক্ষকের তুলনায় ছাত্রসংখ্যা বেশি থাকা স্কুলগুলিতে। এছাড়া, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক থাকা স্কুলগুলিতেও নজর রাখা হচ্ছে। সেখান থেকেও শিক্ষকদের বদলি করতে পারে শিক্ষা দফতর। 

অগ্রাধিকার পাবেন এসব শিক্ষকরা

পিউপিল-টিচার রেশিও (PTR) বা ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের ভিত্তিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে এমন স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করবে। এক্ষেত্রে, যে স্কুলগুলিতে একজন শিক্ষকের কাঁধে অনেক বেশি ছাত্রছাত্রীর দায়িত্বভার রয়েছে, সেই স্কুলগুলি অগ্রাধিকার পাবে। প্রতিটি জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর (DI) মাধ্যমিক স্কুলগুলির এবং ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল (DPSC) প্রাথমিক স্কুলগুলির তালিকা প্রকাশ করবে। সেই তালিকায় থাকবে স্কুলের নাম, জেলা, ব্লক, প্রয়োজনীয় শিক্ষকের সংখ্যা এবং প্রতিটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শূন্যপদের সংখ্যা।

এই বদলির জন্য শিক্ষকের যাতে কোন অসুবিধা না হয়, তার জন্য নিজেদের পছন্দমত স্কুল বেছে নেওয়ারও সুযোগ দিচ্ছে শিক্ষা দফতর। যাদের বদলি করা হবে, তারা তিনটি পছন্দের স্কুলের নাম জানাতে পারবেন। শিক্ষক-সংকট থাকা স্কুলের প্রকাশিত তালিকা থেকেই পছন্দসই স্কুল বেছে নিতে হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পছন্দের স্কুলের নাম না জানালে অথবা বেছে নেওয়া স্কুলে শূন্যপদ না থাকলে প্রশাসন নিজের প্রয়োজন মতো যে কোনও স্কুলে বদলি করতে পারে।

প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক থাকা স্কুলে যাঁরা বেশি দিন ধরে কর্মরত রয়েছেন, তাঁদেরই প্রথমে বদলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, সেই স্কুলের পুরনো টিচাররাই বদলির হবেন মাধ্যমিক স্তরে বিষয়ের ওপর নির্ভর করে এই বদলি হবে। উল্লেখ্য, প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে ধরা হবে না। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা এই তালিকায় থাকবেন।

আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গের নতুন লুকোনো রত্ন, বর্ষায় ঘুরে আসুন ‘তুরিয়ক’

এসওপি-তে বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রী নেই এমন স্কুলগুলি থেকে সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে অন্যত্র বদলি করে দেওয়ার পর ওই স্কুলের বাড়ি ও সম্পত্তির দায়িত্ব সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট সাব-ইন্সপেক্টর অব স্কুলসকে দেওয়া হবে। তিনি স্কুলের সম্পদের হিসাব শিক্ষা দফতরকে জানাবেন। শিক্ষা দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল যেখানে শিক্ষক কম সেখানে প্রয়োজন মেটানো এবং শিক্ষক ও ছাত্রের ভারসাম্য বজায় রাখা।